কাতার বিশ্বকাপের রেশ ধরে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেও মাঠের লড়াইয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা। তবে সেমিফাইনালে থ্রি লায়ন্সদের স্বপ্নভঙ্গ করার পর মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে এখন টক অব দ্য ফুটবল ওয়ার্ল্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড কথার লড়াই। আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগের দুই স্তম্ভ ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল। কিন্তু সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়েননি স্কাই স্পোর্টসের এই প-িত; উল্টো আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারদের।
সাক্ষাৎকারে নেভিল সরাসরি দাবি করেন, আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডাররা মাঠে রীতিমতো গোল উপহার দেন এবং নকআউট পর্বের চার ম্যাচে তাদের হজম করা ছয়টি গোলই তার প্রমাণ। মেসিকে টেনে এনে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারদের খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি তাদের আক্রমণভাগে লিওনেল মেসি না থাকত, তবে এই দুই ডিফেন্ডারের উচিত প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত মেসিকে জড়িয়ে ধরে রাখা। মিসর, কেপ ভার্দে, সুইজারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের করা সব শিশুতোষ ভুল মেসি একাই ঢেকে দিয়েছে।’ টটেনহ্যাম ডিফেন্ডার রোমেরোকে প্রিমিয়ার লিগের অবনমন ও ৬৫ গোল হজমের খোঁচা দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘তারা প্রতিভাবান, কিন্তু চরম ভুল করে। তারা অসামান্য, আবার একই সঙ্গে হাস্যকরও।’
অবশ্য ইংলিশদের এই সাবেক তারকার এমন সরাসরি আক্রমণ মুখ বুজে সহ্য করেননি আলবিসেলেস্তে শিবিরের তারকারাও। ডি-স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কড়া জবাব দিয়ে রোমেরো বলেন, ‘আমাদের রাগ হয়েছিল, কারণ ওরা ম্যাচের আগে খুব বেশি কথা বলে। ইংল্যান্ডের মানুষ সবসময়ই অনেক বেশি কথা বলে। আশা করি তারা এখন মুখ বন্ধ করে খুশি থাকবে।’ অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা লিসান্দ্রো মার্তিনেস আরও এক ধাপ এগিয়ে মাঠেই জবাব দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, ‘ওরা কথা বলতে ভালোবাসে, আর আমরা মাঠে জবাব দিই। আমার একটাই চাওয়া, অবসর নেওয়ার পর আমি যেন নেভিলের মতো এমন বোকামি না করি এবং অন্য খেলোয়াড়দের নিয়ে অহেতুক সমালোচনা না করি।’
পুরো ঘটনায় আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারদের ধুয়ে দিলেও লিওনেল মেসির প্রশংসায় অবশ্য পঞ্চমুখ ছিলেন নেভিল। মেসিকে ‘বিশুদ্ধ প্রতিভার খেলা’ আখ্যা দিয়ে তিনি স্বীকার করেছেন যে, মেসি না থাকলে আর্জেন্টিনার গত দুই টুর্নামেন্টের ফল কী হতো তা বলাই বাহুল্য। তবে ফাইনালের ঠিক আগমুহূর্তে নেভিলের এই ‘সরাসরি আক্রমণ’ এবং আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারদের ‘মাঠের জবাব’ দেওয়ার এই পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার ফুটবলীয় উত্তাপকে নিয়ে গেছে তুঙ্গে। রোববারের মেগা ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই কথার লড়াই আলবিসেলেস্তেদের জন্য বাড়তি প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

