ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বকাপজয়ী দলের জন্য বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’

মাঠে ময়দানে ডেস্ক 
প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম

ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরা কিংবা গলায় মেডেল ঝুলানোÑ বিশ্বজয়ের এই চিরচেনা উদযাপনের সংজ্ঞা এবার বদলে যাচ্ছে। ২০২৬-এ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের হাত ধরে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে যোগ হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রা। ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের দেওয়া হবে বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ বা আংটি। সোনালি ট্রফি আর মেডেলের পাশাপাশি এখন থেকে বিশ্বজয়ের স্মারক শোভা পাবে ফুটবলারদের আঙুলেও।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই ফিফার এই নতুন উদ্যোগ। আমেরিকার এনবিএ (বাস্কেটবল), এনএফএল (আমেরিকান ফুটবল) কিংবা এমএলবির (বেসবল) মতো জনপ্রিয় ও জমকালো লিগগুলোয় চ্যাম্পিয়ন দলকে এই ধরনের রিং দেওয়ার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। এবার যৌথ আয়োজক দেশ হিসেবে আমেরিকার সেই ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলে। ফিফা জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপের সালকে স্মরণীয় করে রাখতে মোট ২ হাজার ২৬টি রিং তৈরি করা হচ্ছে, যার মধ্যে মাত্র ৩০টি রিং বরাদ্দ থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের স্কোয়াড ও অফিসিয়ালদের জন্য। বাকি এক হাজার ৯৯৬টি আংটি ফিফার অফিসিয়াল লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্মারক হিসেবে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের জন্য বাজারে ছাড়া হবে।

এই চ্যাম্পিয়নশিপ রিংয়ের নকশা এবং তৈরিতে থাকছে দারুণ আভিজাত্যের ছোঁয়া। আংটির এক পাশে খোদাই করা থাকবে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির জমকালো প্রতিরূপ। অন্য পাশে ফুটিয়ে তোলা হবে ফাইনালজয়ী দলের নাম, তাদের প্রতীক এবং নিজস্ব রং। বিজয়ীদের জন্য তৈরি প্রতিটি আংটিতে থাকবে সুনির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বর এবং আসল রিংয়ের সত্যতা নিশ্চিত করতে দেওয়া হবে একটি বিশেষ সত্যায়নপত্র (সার্টিফিকেট অব অথেনটিসিটি)। আগামী রোববারের ফাইনালের পরপরই পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে বিজয়ী অধিনায়ক ও কোচের হাতে প্রতীকী আংটি তুলে দেওয়া হবে। পরে পুরো দলের প্রত্যেকের আঙুলের নিখুঁত মাপ নিয়ে আসল আংটিগুলো হস্তান্তর করা হবে।

আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা নামছে তাদের মুকুট ধরে রেখে চতুর্থ শিরোপা ঘরে তোলার মিশনে, অন্যদিকে স্প্যানিশ আর্মাডারা লড়ছে তাদের দ্বিতীয় বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে। মাঠের লড়াইয়ে যে দলই শেষ হাসি হাসুক না কেন, ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পাশাপাশি তারাই হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম দল, যাদের আঙুলে উঠবে ফিফার এই ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’।