ভারতের পেট্রাপোল ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট দিয়ে রোনাল বড়ুয়া ওরফে শ্রাবণ বড়ুয়া (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা রোনাল বড়ুয়া ওরফে শ্রাবণ বড়ুয়া বাংলাদেশের চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ভাগবানপুর সুকবিলাস এলাকার বাসিন্দা। তিনি নেপাল বড়ুয়ার ছেলে।
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, ভারতে বিদেশি নাগরিকদের নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা এফপিআরও কলকাতার সুপারিশে এবং ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ইস্যুকৃত নোটিশের ভিত্তিতে তাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করা হয়।
বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্টে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়। এতে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।
এ সময় ভারতের পক্ষে হস্তান্তরকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন অফিসার এবং বিএসএফের ‘বি’ কোম্পানি ১৪৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট প্রতিনিধি। বাংলাদেশের পক্ষে গ্রহণকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রতিনিধি।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য বেনাপোল পোর্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন থানা থেকে তাকে গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার যশোরের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরত আসা রোনাল বড়ুয়া বৈধ ভিসা নিয়ে ভারতে যান। পরে তার পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে এবং বিহার সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়।
অবশেষে ১৮ মাস কারাভোগ শেষে দুই দেশের সরকারের দেওয়া ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে তাকে গ্রহণ করে পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন