ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আব্দুল বারীর আয়, সম্পদ ও দায়-দেনা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা শেষ হয়। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয়-ব্যয়, মামলা সংক্রান্ত তথ্য এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ হলফনামায় দাখিল করা বাধ্যতামূলক।
হলফনামা অনুযায়ী, সাবেক ডিসি মো. আব্দুল বারী নিজের, স্ত্রী ও নির্ভরশীল সন্তানদের আয়, সম্পদ, দায়-দেনা ও মামলা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেছেন।
মো. আব্দুল বারীর জন্ম ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৫। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স ৭০ বছর। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ। তার স্ত্রী নাজমা আরা বেগম গৃহিণী।
বার্ষিক আয়
হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল বারীর আয়ের উৎসের মধ্যে রয়েছে: কৃষিখাত থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বিদেশ থেকে ২০ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে ৬ হাজার ৬৮৭ টাকা, পেশাগত সম্মানী ৪০ হাজার টাকা এবং পেনশন থেকে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ২১০ টাকা।
এ ছাড়া নির্ভরশীলদের ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্র থেকে আয়সহ তার মোট বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৫ লাখ ১৯ হাজার ৮৪৪ টাকা। আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯৭ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪ টাকা।
অস্থাবর সম্পদ
হলফনামা অনুযায়ী অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে, নগদ অর্থ আব্দুল বারীর নামে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬০ টাকা। ব্যাংক আমানত রয়েছে, তার নামে প্রায় ১৯ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে প্রায় ৪৩ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র ও এফডিআরে তার নামে রয়েছে, ৮৮ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া একটি প্রাইভেট কার রয়েছে, যার অধিগ্রহণমূল্য ২৪ লাখ টাকা। স্বর্ণ ও গহনার মধ্যে আব্দুল বারীর নামে ২০ তোলা এবং স্ত্রীর নামে ২০ ভরি দেখানো হয়েছে। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ১২০ টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ২০ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মোট অধিগ্রহণকালীন মূল্য ২৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৮ টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদ
স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ৩৩১.৫০ শতাংশ কৃষিজমি। বিভিন্ন স্থানে অকৃষি জমির অধিগ্রহণমূল্য দেখানো হয়েছে ৫৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া গ্রামে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের মোট অধিগ্রহণকালীন মূল্য ৫৩ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
দায় ও দেনা
হলফনামা অনুযায়ী, ছেলের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা, মেয়ের কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে সন্তান ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অন্যান্য ধার ১৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং নির্ভরশীলদের নামে দায় দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ২২ হাজার ৭০২ টাকা। তবে তার বা পরিবারের কোনো সদস্যের নামে কোনো খেলাপি ঋণ নেই।
মামলা সংক্রান্ত তথ্য
হলফনামা অনুযায়ী, অতীতে তার বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি মামলা ছিল। ধানমন্ডি থানার মামলা (২০০৭) থেকে তিনি ২০০৮ সালে অব্যাহতি পান। বিমানবন্দর থানার মামলা (২০১০) ২০২৫ সালে রাষ্ট্র কর্তৃক প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো চলমান মামলা নেই।
মোট হিসাব
নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী—মোট বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ১৯ হাজার ৮৪৪ টাকা, অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রায় ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে সাবেক ডিসি মো. আব্দুল বারী ও তার পরিবারের নামে বর্তমান আনুমানিক মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৭ কোটি ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন