পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘অ্যাক্সেস টু অ্যান্ড ইউটিলাইজেশন অব লাইফসেভিং সার্ভিসেস বাই মার্জিনালাইজড কমিউনিটিজ ইন চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে রাঙামাটি জেলা পরিষদের অ্যানেক্স ভবনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ সভার আয়োজন করে আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস। এতে সহযোগিতা করে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন হেলেন কেলার প্রকল্পের কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অত্যন্ত দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পাহাড়ের বাস্তবতা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়েই কাজ করতে হবে। তিনি পুষ্টিকর খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় কার্যকরভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কর্মকর্তা মো. খালেদ জানান, পাঁচ বছরের কম বয়সী পুষ্টিহীন শিশু এবং নিরাপদ পানির সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি শিশুদের মা ও গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। তিন পার্বত্য জেলায় মোট ১ লাখ ২১ হাজার শিশুকে প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, কৃষি বিভাগ এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগ প্রকল্প বাস্তবায়নে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা সুইচিং মং মারমা, অ্যাডভোকেট চঞ্চু চাকমা, সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সায়েদ, জেলা পরিষদের সদস্য নাইপ্রু মারমা মেরি, আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক এবং রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও এনজিওর প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে পার্বত্য অঞ্চলের অনেক শিশু ও গর্ভবতী মা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। দুর্গম এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে এ প্রকল্পের লক্ষ্য সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা শিশুপুষ্টি ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রকল্পটির কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন