চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্রসৈকতের সাগরপাড়ে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ ভেসে এসেছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে সৈকতের পাড়ে কয়েকটি বিরল প্রজাতির কচ্ছপের দেখা মিলেছে।
প্রতিবছর এই শীত মৌসুমে জোয়ারের পানিতে কচ্ছপগুলো ভেসে আসে বলে স্থানীয়রা জানান। কচ্ছপটির ওজন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ২/৩ ফুট। কচ্ছপটির গায়ে জালের দাগও দেখা গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, কচ্ছপটি হয়তো জেলেদের জালে আটকে গিয়ে শ্বাসরোধে মারা গেছে। পরে স্রোতের টানে তীরে ভেসে এসেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি শীত মৌসুমে এ রকম অনেক কচ্ছপ ভেসে এসে সাগরপাড়ে জমে। শুধু কচ্ছপ নয়, এই মৌসুমে আরও বিভিন্ন প্রজাতির মৃত মাছ ভেসে আসে। কচ্ছপগুলো এখনো সৈকতের সাগরপাড়ের বালুতে পড়ে আছে।
জানা যায়, বাংলাদেশে মূলত পাঁচ প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ দেখা যায়, যার মধ্যে অলিভ রিডলি ও সবুজ কচ্ছপ বেশি পরিচিত। বঙ্গোপসাগর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ এদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
এগুলো একটি সামুদ্রিক সরীসৃপ, চেলোনিডি পরিবারের অন্তর্গত। এদের চামড়া হলুদ থেকে বাদামি রঙের হয় এবং খোসা সাধারণত লালচে বাদামি হয়। এই কচ্ছপ প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত লিঙ্গের কোনো বাহ্যিক পার্থক্য দেখা যায় না। এদের সবচেয়ে স্পষ্ট পার্থক্য হলো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের পুরু লেজ এবং নারীদের তুলনায় ছোট প্লাস্ট্রন (নিম্ন খোলস) থাকে।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে শীত মৌসুমে এ ধরনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত। তাই কচ্ছপের মৃত্যুরোধে সমুদ্রদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নির্দিষ্ট এলাকাকে সংরক্ষিত হিসেবে ঘোষণা করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় কচ্ছপসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন