চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে নির্বিচারে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন ছোট প্রজাতির মাছ। এক শ্রেণির অসাধু জেলে প্রতিবছর শীত মৌসুমে অবৈধ ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে এসব মাছ নিধন করে থাকে। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, রেণু ও পোনাসহ ছোট মাছ ধ্বংসকারী বেহুন্দি ও অন্যান্য ক্ষতিকর জাল অপসারণে বিশেষ কম্বিং অপারেশন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রয়েছে।
মেঘনার উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীর অধিকাংশ মাছ শীত মৌসুম শুরুর আগেই ডিম ছাড়ে। শীত মৌসুমে ইলিশ, চিংড়ি, পাঙ্গাস, বেলে, আইড়, রিটা, পাবদা, পোয়া, চেউয়া, টেংরাসহ প্রায় ৩৫ প্রজাতির মাছের পোনায় নদী ভরে ওঠে। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে এসব মাছের পোনা নিধন করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার লালপুর, রাজরাজেশ্বর, চিরারচর, পুরানবাজার রনাগোয়াল, বহরিয়া, হরিণা, আখনের হাট ও হাইমচর কাটাখালি এলাকায় অসাধু জেলেরা রাতের আঁধারে এসব ছোট মাছ ধরে। দিনের বেলায় এসব জাল ও নৌকা নদীর পাড়ে এনে রাখা হয়। ভোর থেকে নদীর পাড়েই পাইকারি দরে এসব মাছের বেচাকেনা শুরু হয়। পরে বাজার ও শহরের অলিগলিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে এসব ছোট মাছ বিক্রি করা হয়।
সদর উপজেলার হরিণা ফেরিঘাট এলাকার প্রবীণ একাধিক জেলে জানান, জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে মধ্যরাতে পাতাজাল, বেহুন্দিজাল, মশারি জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল নিয়ে জেলেরা নদীতে নামে। এসব জালে শুধু মাছের পোনাই নয়, কাঁকড়াসহ বিভিন্ন উপকারী জলজ প্রাণীও ধরা পড়ে। নিধন করা পোনা পুরানবাজারসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের নদীর পাড়েই দাদনদারদের কাছে বিক্রি করে দেয় জেলেরা। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শত শত নৌকায় করে হাজারো জেলে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নিধনে জড়িত থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরানবাজার রনাগোয়াল এলাকায় ছোট সাইজের বেলে গুড়া বা সাগরের পোনার নামে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে। রনাগোয়াল নুরু বকাউলের বাড়ির পেছনে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫টি নৌকা দিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মন মাছের বেচাকেনা হয়। এ কাজে জড়িত একটি চক্রের সদস্য হিসেবে লিটন গাজী, কাঞ্চন, মানিক, হান্নান, কাসিম ছৈয়াল, বাদল ও আরশাদের নাম উঠে এসেছে। তারা প্রকাশ্যে দাবি করেন, নৌ-পুলিশ ও মৎস্য অফিসকে ম্যানেজ করেই তারা এসব কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
পুরানবাজার রনাগোয়াল এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে বলেন, শীত মৌসুমে নদীতে প্রচুর পরিমাণে মাছের পোনা পাওয়া যায়। গুড়া মাছ ধরতে নদীতে নামার আগে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নৌ-পুলিশকে হাত করতে হয়। এরপর জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়েন তারা।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সবেবরাত সরকার বলেন, নির্বিচারে পোনা নিধনের কারণে প্রতিনিয়ত মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, আমাদের নিয়মিত কম্বিং অভিযান চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি আমরা অবগত আছি। গত সপ্তাহে পরিচালিত একাধিক অভিযানে নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, বেহুন্দি, চরঘেরা ও মশারি জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি-এই দুই মাস অভিযান অব্যাহত থাকবে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন