× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ১০:২১ এএম

সিলেট–৬ আসনে আঞ্চলিকতা ও চাপা উত্তেজনা, চোখ ব্যালট বাক্সে

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ১০:২১ এএম

নির্বাচনে প্রার্থীরা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নির্বাচনে প্রার্থীরা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

রাত পোহালেই সিলেট–৬ (বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জ) আসনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এরই মধ্যে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ১৯২টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানো হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন এই এলাকার ভোটাররা। ফলে পুরো আসনজুড়ে উৎসবের আমেজ থাকলেও ভেতরে ভেতরে বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা। এখন সবার দৃষ্টি এক জায়গায়—ব্যালট বাক্সে।

২২ জানুয়ারি শুরু হওয়া টানা নির্বাচনি প্রচার শেষ হয় ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায়। প্রচার থামার পর আসনজুড়ে নেমে এসেছে নীরবতা। তবে সেই নীরবতার আড়ালে চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব–নিকাশ ও কৌশলগত বিশ্লেষণ। কে পড়বেন বিজয়ের মালা—তার উত্তর মিলবে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট শেষে।

২৩৪ নম্বর এই সংসদীয় আসনের এবারের নির্বাচনকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জটিল ও কৌতূহলোদ্দীপক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। প্রকাশ্য প্রচার, দলীয় প্রতীক কিংবা মাঠের শক্তির বাইরেও এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে আঞ্চলিক পরিচয়, নীরব ভোট ব্যাংক এবং শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত। ফলে কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে—এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছেন না কেউই।

নির্বাচনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিলেট–৬ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৯২টি। এর মধ্যে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ১০৩টি এবং বিয়ানীবাজার উপজেলায় ৮৯টি কেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটকক্ষ সংখ্যা ১ হাজার ১৩টি। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৩৮ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ১৫৫ জন।

প্রচার পর্বে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ঐক্যের বার্তা দিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। দলীয় ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক, একাত্তরের শক্তির নীরব সমর্থন এবং জোটগত ঐক্য—সব মিলিয়ে তিনি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাস্টিং ভোটের একটি বড় অংশ ধানের শীষের ঝুলিতে যেতে পারে। তবে আঞ্চলিক মেরুকরণ এই সমীকরণ কতটা বদলে দিতে পারে, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সেলিম উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচনকে ‘মর্যাদার লড়াই’ হিসেবে দেখছেন। বিয়ানীবাজারের সন্তান হিসেবে আঞ্চলিক পরিচয়কে সামনে রেখে তিনি উঠান বৈঠক, পথসভা ও ব্যক্তি যোগাযোগে বিশেষ গুরুত্ব দেন। দলীয় ভোট ধরে রাখার পাশাপাশি নিরপেক্ষ ভোটার এবং আওয়ামী ঘরানার একটি অংশকে আকৃষ্ট করার কৌশলও নিয়েছেন তিনি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ভোট আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

এই আসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি জোটের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জমিয়ত নেতা হাফিজ মাওলানা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। হেলিকপ্টার প্রতীকে তিনি উলামা সমাজের একটি বড় অংশের সমর্থন পেয়েছেন বলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে রিভার বেল্ট এলাকায় তার প্রভাব দৃশ্যমান। বিয়ানীবাজার পিএইচজি মাঠে ফুলতলী মসলকের ওয়াজ মাহফিলকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক ও বাধা দেওয়ার ঘটনা ভোটের হাওয়ায় প্রভাব ফেলেছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। ফলে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি কার্যকর ‘ভোট–কাটার’ ভূমিকায় উঠে এসেছেন।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুন নূর (লাঙ্গল) নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পুরোনো প্রতীক ও ব্যক্তিগত পরিচিতিকে পুঁজি করে প্রচার চালিয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমান (ট্রাক) জোটে থাকলেও এই আসনে স্বতন্ত্রভাবে মাঠে ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ভোটের একটি অংশ এই দুই প্রার্থীর দিকেও যেতে পারে।

এবারের নির্বাচনে আঞ্চলিক সমীকরণ উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ধানের শীষের প্রার্থীর বাড়ি গোলাপগঞ্জে হলেও অন্য চার প্রার্থীর বাড়ি বিয়ানীবাজারে। ফলে ‘নিজ উপজেলার প্রার্থী’ ভাবনা ভোটের অঙ্কে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

সবচেয়ে বড় অদৃশ্য ফ্যাক্টর হিসেবে আলোচনায় রয়েছে নৌকা প্রতীক না থাকলেও আওয়ামী লীগের নীরব ভোটব্যাংক। প্রকাশ্যে অবস্থান না নিলেও শেষ মুহূর্তে তাদের সিদ্ধান্ত পুরো ফলের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে সিলেট–৬ আসনের নির্বাচন কোনো সরল দ্বন্দ্ব নয়। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও হেলিকপ্টার—এই তিন প্রতীকের মধ্যেই কাস্টিং ভোটের বড় অংশ ভাগ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশিষ্ট ভোট যাবে অন্যান্য প্রার্থীদের ঝুলিতে।

প্রচার শেষ। এখন সব হিসাব–নিকাশ থেমে আছে ভোটের দিনে। শেষ পর্যন্ত প্রতীক, আঞ্চলিকতা না কি নীরব ভোট—কোনটি নির্ধারণ করবে বিজয়ী, তার উত্তর মিলবে ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বাক্স খোলার পরই।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!