গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬-এ দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সম্মানি ও ভাতা থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ কর্তন করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রচলিত আইন অনুযায়ী উৎস কর ও ভ্যাট কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ৫ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলায় ৪৩টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন ৪৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২৪৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪৮৮ জন পোলিং অফিসার।
প্রিজাইডিং অফিসারদের ৮ হাজার টাকা সম্মানি থেকে ১০ শতাংশ উৎস কর কেটে দেওয়া হয়েছে ৭ হাজার ২০০ টাকা। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের ৬ হাজার টাকা থেকে ১০ শতাংশ কেটে দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ৪০০ টাকা। পোলিং অফিসারদের ৪ হাজার টাকা থেকে ১০ শতাংশ কেটে দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ টাকা।
এছাড়া প্রত্যেক কর্মকর্তার জন্য ১ হাজার টাকা করে যাতায়াত ভাতা বরাদ্দ ছিল। ওই ভাতা থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আয়কর মিলিয়ে মোট ২০ শতাংশ অর্থাৎ ২০০ টাকা কর্তন করা হয়েছে। ফলে যাতায়াত বাবদ প্রত্যেকে হাতে পেয়েছেন ৮০০ টাকা।
মাস্টার রোলে এ সংক্রান্ত কর্তনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে এবং ভাতাগ্রহীতাদের স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ ও ভ্যাট আইন ২০২৩ অনুযায়ী সম্মানির ওপর ১০ শতাংশ আয়কর এবং পরিবহন ব্যয়ের ওপর ভ্যাট ও আয়কর প্রযোজ্য। হিসাব-নিকাশ শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ১৭ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকিং সময়ে কেটে রাখা ভ্যাট ও আয়করের অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভাতা থেকে অতিরিক্ত কর্তন হয়েছে কি না—এ বিষয়ে তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।



