সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় মাঠ থেকে চুরি করা গরু জবাই করে সেই মাংস দিয়ে ইফতার মাহফিল আয়োজনের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুখাপন গ্রামে আয়োজিত ওই ইফতার মাহফিলে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ কয়েক গ্রামের সহস্রাধিক রোজাদার অংশ নেন।
চুরির গরুর মাংসে ইফতার পরিবেশনের বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গলমুখাপন গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইউনাইটেড গলমুখাপন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আজাদ আহমদ সাদ মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (৬ রমজান) ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আহমদ মধু ও সাধারণ সম্পাদক বুরহান মিয়া।
ইফতারের আগের দিন একই গ্রামের নাজমুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির একটি গরু পাশের মাঠ থেকে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তিনি গরুটির সন্ধান পাননি। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আহমদ মধু ইফতারের জন্য তার বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদীকে তিনটি গরু কেনার টাকা দেন। তবে কেয়ারটেকার গরু না কিনে নাজমুল ইসলামের হারিয়ে যাওয়া গরুটি ধরে এনে জবাই করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে গ্রামবাসী প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে কৈফিয়ত চান। পরে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, ইফতারের জন্য জবাই করা গরুটি নাজমুল ইসলামের। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আহমদ মধু গরুর মালিককে নগদ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করে বিষয়টি মীমাংসা করেন। বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার রাতেই তিনি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
অর্থ পরিশোধের পর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আহমদ মধু একটি ভিডিও বার্তা দেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কেয়ারটেকার সাঈদী পলাতক রয়েছেন।
এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া জানান, তাদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন