সিলেট নগরীতে আবারও প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এবার নগরীর সাগরদিঘীর পাড় এলাকায় এক কলেজ শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। তবে শুক্রবার মধ্যরাতে ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ফুটেজে দেখা যায়, হেঁটে যাওয়া এক নারীকে একটি পালসার মোটরসাইকেলে এসে দুই ব্যক্তি ঘিরে ধরে। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা ওই নারীর মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
তবে মোবাইল ফোন ও ব্যাগ নিতে না পারলেও তারা নারীর হাতঘড়ি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সকালে ঘটনাটি ঘটলেও রাত ৩টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ও পরিদর্শক (তদন্ত) ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, সকালে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পুলিশের আইপি ক্যামেরার ফুটেজও যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
দিনদুপুরে এমন ঘটনায় নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে গত দুই মাসে সিলেট নগরীতে প্রকাশ্যে আরও দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ২৩ ফেব্রুয়ারি সিলেটের হাউজিং এস্টেট এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে এক নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
৩৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেল প্রথমে অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে আরও দুটি মোটরসাইকেল সেখানে এসে যোগ দেয়। এরপর একটি মোটরসাইকেল থেকে নেমে এক যুবক অটোরিকশায় বসা এক নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ টানাটানির পর ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় তারা।
পরে জানা যায়, ওই তরুণী একটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন। তার ব্যাগে নগদ ১৫ হাজার টাকা, কয়েকটি ব্যাংকের চেক বই এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল। এ ঘটনায় তিনি সিলেটের বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এই ঘটনার পর ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে বিমানবন্দর থানার তৎকালীন ওসি মোবাশ্বিরকে প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে ২৫ জন এবং গত ১০ মাসে প্রায় আড়াই শতাধিক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন