কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বড় হাওরে জিরাতিদের একটি গোয়ালঘর থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৯ মার্চ) অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের করগাঁও মৌজার পাটাচাপড়া হাওরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ।
অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত রানা মিয়া (২০) কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার হুমাইপুর গ্রামের আলফাজ মিয়ার ছেলে। তিনি গত কার্তিক মাস থেকে মৌসুমি চুক্তিতে অষ্টগ্রাম উপজেলার করগাঁও মৌজার পাটাচাপড়া হাওরে নওশাদ আহম্মেদ ফারুকী মিয়ার মহিষ দেখাশোনার কাজ করতেন।
নিহতের বাবা মোঃ আলফাজ মিয়া জানান, তিনি কুমিল্লা শহরে ব্যবসা করেন। সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে মোবাইল ফোনে খবর পান যে তার ছেলে রানা মিয়া হাওরের একটি গোয়ালঘরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলে আছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তিনি ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
রানা মিয়ার সঙ্গে একই স্থানে থাকা শ্রমিক তোতা মিয়া (৩১) ও আক্তার হোসেন (৩৬) জানান, রোববার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে আটটার দিকে সবাই রাতের খাবার খেয়ে নিজের নিজের বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন।
রাত প্রায় ১টার দিকে তোতা মিয়া ঘুম থেকে উঠে রানা মিয়াকে বিছানায় না দেখে আক্তার হোসেনকে ডাকেন। পরে টর্চলাইট দিয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে গোয়ালঘরের ভেতরে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়।
নিহতের বাবা আলফাজ মিয়া পুলিশের কাছে দেওয়া অপমৃত্যুর আবেদনে উল্লেখ করেন, ধারণা করা হচ্ছে রাত সাড়ে আটটা থেকে রাত ১টার মধ্যে কোনো এক সময় রানা মিয়া সবার অগোচরে গোয়ালঘরে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন, আবার কেউ হত্যাও করতে পারে। তিনি তদন্ত করে সঠিক কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, হাওরের দুর্গম এলাকায় এ ধরনের ঘটনার সঠিক কারণ জানতে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। যুবকের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে তা জানতে পুলিশি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন