সিলেটের বিশ্বনাথে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে চুরির ঘটনা। প্রতিদিনই উপজেলার কোনো না কোনো এলাকায় সংঘটিত হচ্ছে চুরি। বিভিন্ন স্থাপনার তালা কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। এসব অপরাধ থেকে রেহাই পাচ্ছে না মসজিদ, মাদ্রাসা, মাজার ও মন্দিরও। একের পর এক চুরির ঘটনায় এলাকাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে চোরেরা চুরির ধরনও পাল্টে নিয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাতে বিশ্বনাথ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানগাঁও গ্রামে মুফতি আব্দুল মোক্তাদির ফয়ছলের ফার্ম থেকে একটি অটো রাইস মিলের মোটর ও বৈদ্যুতিক তার চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।
এর আগে গত শনিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুরুয়ালা (ননকীপাড়া) গ্রামের একটি জামে মসজিদের প্রধান গেটের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে চোরচক্র। পরে তারা মসজিদের দুটি দানবাক্স নিয়ে যায়। এ সময় হুজরার তালা কেটে ইমামের মালামাল নেওয়ার চেষ্টাও চালায়। তবে মূল্যবান কিছু না পেয়ে ইমামের আসবাবপত্র এলোমেলো করে রেখে যায় তারা।
একই রাতে পাশের গ্রাম পশ্চিম শ্বাসরামের শাহ ওলী খন্দকার (রহ.) মাজারের দানবাক্সের চেইন কেটে পুরো দানবাক্সই নিয়ে যায় চোরেরা।
পরদিন রোববার রাতে বিশ্বনাথ পৌর শহরের আল মাদরাসাতুল হানাফিয়্যাহ ও এতিমখানার গেটের তালা কেটে সেখান থেকে একটি আইপিএস মেশিন চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ছাড়া গত সপ্তাহের মঙ্গলবার রাতে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর এলাকার ‘শ্রীশ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায়ের সিদ্ধ বকুলতলা ধাম মন্দির’-এর শয়নকক্ষের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে ঢুকে একটি সিলিং ফ্যান, একটি ইলেকট্রিক কেটলি, একটি ছাতা, একটি প্রেসার মাপার মেশিন এবং মন্দিরের বাইরে থাকা স্টিলের ১৯টি পানির ট্যাপ ও বৈদ্যুতিক তার নিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার সদলপুর গ্রামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মুস্তাফিজুর রহমান সেলিমের বাড়িতে গ্রিল কেটে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল প্রবেশ করে। পরে তারা স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা ঘটছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না।’
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ‘চুরির ঘটনা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি এলাকাবাসীকেও সচেতন হয়ে নিজ নিজ নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।’
সুরুয়ালা ননকীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অলি আহমদ বলেন, ‘ক্রমাগত এমন চুরির ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এসব চুরি সাধারণত মাদকাসক্তি বৃদ্ধির কারণে ঘটছে বলে আমরা মনে করি। তাই এসবের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
বিশ্বনাথ পৌরশহরের বাসিন্দা মাওলানা শহিদুর রহমান বলেন, ‘গত রাতে আমার মাদ্রাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের টহল আরও জোরদার করা জরুরি।’
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি চোরচক্র মসজিদ ও মাদ্রাসাকে টার্গেট করছে। তবে এ চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন