মোবাইলে কল না ধরায় ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে দিনে-দুপুরে এক সহকারী অধ্যাপককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে রাসেল শেখ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় মামলা করার পরও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
আহত মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫) বর্তমানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায় ৪৪ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পার্শ্ববর্তী চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ৮ এপ্রিল দুপুরে চিতলমারীর বড়বাড়িয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় একই গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে রাসেল শেখ উপস্থিত হন। এ সময় তিনি হঠাৎ সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে হুমকি দিয়ে মারধর শুরু করেন।
একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়।
আহত রফিকুল ইসলাম বলেন, ৬ এপ্রিল রাতে অনলাইন ট্রেনিংয়ের সময় আমার মোবাইলে কল দেন রাসেল। তখন আমি ট্রেনিংয়ে আছি জানিয়ে কলটি কেটে দিই। পরদিন ৭ এপ্রিল তিনি একাধিকবার কল দিলেও ব্যস্ততার কারণে ধরতে পারিনি।
পরে ৮ এপ্রিল মাদ্রাসায় এসে ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে আমাকে হুমকি দিয়ে মারধর শুরু করেন এবং একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। থানায় মামলা করার পরও তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি।
অভিযুক্ত রাসেল শেখ নিজেকে যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত দাবি করে বলেন, রফিকুল ইসলাম ও তার শ্বশুর মাছুদুর রহমান মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন।
দীর্ঘদিনেও চাকরি না দেওয়া ও টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন বলে দাবি করেন। তবে হাতুড়ি দিয়ে মারধরের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
চিতলমারী থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সহকারী অধ্যাপককে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন