দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা দুইটার মধ্যে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জে তিনজন করে মারা গেছেন। এ ছাড়া হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে একজন করে নিহত হয়েছেন।
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু
জেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। দুপুরে সদর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৩৮), গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের জমির হোসেন (৪০) এবং জামালগঞ্জ উপজেলার রূপাবালী গ্রামের আবু ছালেক (২৪)।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে সদর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দেখার হাওরে অন্য কৃষকদের সঙ্গে ধান কাটছিলেন জমির উদ্দিন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই সময়ে বৈটাখালি গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নদীঘাটে দোকান খুলতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতের শিকার হন জমির হোসেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, জামালগঞ্জ উপজেলার রূপাবালী গ্রামের আবু ছালেক হাওরে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমান জানান, দুপুরে বজ্রপাতের ঘটনায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তবে তারা সবাই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন।
এ ছাড়া জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আরও তিন কৃষক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
নেত্রকোণায় বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু
জেলার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট (ফেরি) এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামে এক শিকারীর মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বাগবেড় গ্রামের বাসিন্দা।
অন্যদিকে, একই দিনে উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরের ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন মোনায়েম খাঁ পালান নামে এক কৃষক। তিনি ওই গ্রামের নেকবর খাঁর ছেলে। স্থানীয়রা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে ধান শুকানোর সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ছাড়া বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মণ্ডল নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার আকন্দদিঘির চর এলাকায়।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বজ্রপাতেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে দুজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরজনের মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
হবিগঞ্জে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে বৃষ্টির সময় বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা গেছেন মকসুদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি। বেলা দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে বৃষ্টির মধ্যে মকসুদ মিয়া গরু আনতে মাঠে গেলে হঠাৎ বজ্রপাত হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নোয়াখালীতে বাদাম তুলতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু
জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মায়ের সঙ্গে বাদাম তুলতে গিয়ে আরাফাত হোসেন (১৮) নামে এক কিশোর বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। বেলা পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
আরাফাত ওই এলাকার আফছার উদ্দিনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি স্থানীয় খাসেরহাট এলাকায় একটি মুদির দোকান চালাতেন।
হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, আরাফাত তার মায়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের বাদামখেতে কাজ করছিলেন। মা ও ছেলে খেতের দুই পাশে ছিলেন। হঠাৎ ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

