যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘গোলামির চুক্তিপত্র’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ ও তা বাতিলের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজশাহী কোর্ট শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা ৩২ পৃষ্ঠার চুক্তিপত্রটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র তিন দিন আগে দেশের জনগণকে অন্ধকারে রেখে সম্পূর্ণ গোপনীয়ভাবে এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পাদন করেছে সাবেক ইউনূস সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে বিদেশিদের সঙ্গে এ ধরনের নীতিগত চুক্তি করার কোনো আইনি অধিকার তাদের ছিল না। এই চুক্তি স্বাধীন বাংলাদেশকে পুনরায় গোলামির শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার শামিল। বিশ্বসন্ত্রাসী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রণীত যে ‘পাল্টা শুল্কনীতি’র ওপর ভিত্তি করে এই বাণিজ্য চুক্তি তৈরি করা হয়েছে, তা খোদ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ‘অবৈধ’ বলে বাতিল ঘোষণা করেছে। সুতরাং একটি বাতিলকৃত নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি চুক্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বক্তারা বলেন, ৯৮ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশে মার্কিন চুক্তির মাধ্যমে ব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম, সালামি, প্রসিউট্টোসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর শূকরের গোশতজাত খাবার আমদানির তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকা থেকে বিষাক্ত জিএমও (জেনেটিক্যালি মডিফাইড) খাবার আমদানি করা হলেও বাংলাদেশ তা আলাদা কোনো লেবেল দিয়ে চিহ্নিত করতে পারবে না। আমেরিকা তাদের খাবারের যে ‘হালাল সনদ’ দেবে, সেটিই বাংলাদেশকে চোখ বন্ধ করে মেনে নিতে হবে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী বার্ড ফ্লু মহামারি দেখা দিলেও সেখান থেকে মুরগি বা ডিম আমদানি সচল রাখতে বাংলাদেশ বাধ্য থাকবে।
রপ্তানি বৃদ্ধির রাষ্ট্রীয় দাবির সমালোচনা করে বক্তারা গণমাধ্যমের সূত্র ধরে জানান, গত চার মাসে আমেরিকা থেকে আমদানি শতভাগ বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ। ফলে এই চুক্তি দেশের অর্থনীতির জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এই দেশবিরোধী চুক্তির অপরাধে সমাবেশ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের (বক্তব্যে খলিল হিসেবে উল্লিখিত) গ্রেপ্তার ও শরীয়ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।
একই সমাবেশ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি আরও কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ভারতীয় মুসলমানদের ওপর অমানবিক নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ করা, দেশের নওমুসলিমদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া, পার্বত্য চট্টগ্রামে মসজিদ নির্মাণে বাধা প্রদানকারী উপজাতি সন্ত্রাসীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং যেসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় ‘নো-বিফ’ চিহ্ন ঝুলছে, সেগুলো বন্ধ করে প্রতিটি রেস্তোরাঁয় বাধ্যতামূলক গরুর গোশত রাখার ব্যবস্থা করা।
সহস্রাধিক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে মুখ্য বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মুহাম্মদ সুজন আলী।
সংগঠনের সদস্য সচিব মুহাম্মদ আশিক আহমদের পরিচালনায় এবং সঞ্চালক মুহাম্মদ মুশফিক আরেফীন সবুজের আহ্বানের মধ্য দিয়ে সমাবেশটি পরিচালিত হয়।
এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা মাওলানা মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক মোমিনুল ইসলাম রাজা এবং মুহিব্বুল।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন