পিরোজপুরে জেলা যুবদলের এক নেতাসহ দুজনের ওপর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত দুজন বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পিরোজপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম।
আহতরা হলেন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ সরদার এবং তার চাচাতো ভাই ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল সরদার। তারা দুজনই মধ্যরাস্তা এলাকার বাসিন্দা।
রিয়াজ সরদার জানান, মঙ্গলবার রাতে তিনি ও তার চাচাতো ভাই সাইফুল সরদার মধ্যরাস্তা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েক ব্যক্তি সেখানে আওয়ামী লীগের স্টিকার লাগাতে এলে তাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে উভয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
তিনি আরও জানান, তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী হামলায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শেখ ইমরান শুভকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পিরোজপুর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক মাসুদ বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় আমাদের সংগঠনের এক নেতা ও তার ভাই আহত হয়েছেন। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে জেলা যুবদল কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।
ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন