ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন লাগার পর হোটেল থেকে অন্তত ৩৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিহত বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া এবং মোজাম্বিকের নাগরিকরা ছিলেন।
বেজমেন্টের রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত
দমকল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে পাঁচতলা ভবনের ‘ফ্লারিশ স্টে’ হোটেলের বেজমেন্টে থাকা রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পাশের ‘মিকাসা ইন’ হোটেলেও ছড়িয়ে পড়ে।
ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু গলির এই এলাকায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। প্রথমে কয়েকটি দমকল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোট ১৭টি ফায়ার ইঞ্জিন মোতায়েন করা হয়।
জানালা ভেঙে লাফিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা
আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, অনেক অতিথি ধোঁয়া ও আগুনের হাত থেকে বাঁচতে ভবনের জানালা ভেঙে নিচে লাফ দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের নিরাপদে নামানোর জন্য নিচে ম্যাট্রেস ও তোশক বিছিয়ে সহায়তা করেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কয়েকজনকে ভবনের কাচ ভেঙে নিচে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন গুরুতরভাবে আহত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এসে মর্মান্তিক মৃত্যু
২৫ কক্ষের হোটেলটিতে ঘটনার সময় ৪০ জনের বেশি অতিথি অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার সময় অধিকাংশই ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে দমকল বিভাগ।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিহত বিদেশিদের অনেকে চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে এসেছিলেন। চিকিৎসা নিতে এসে এমন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ
ঘটনার পর হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সীমিত সংখ্যক কক্ষ পরিচালনার অনুমতি পেলেও নিয়মের বাইরে গিয়ে অনেক বেশি কক্ষ চালু রাখা হয়েছিল।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোটেলটির বৈধ ফায়ার সেফটি ছাড়পত্র ছিল না। ভবনে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য কার্যত একটি মাত্র পথ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ আটকা পড়েন। বেজমেন্টের প্রবেশমুখ বন্ধ থাকায় উদ্ধারকাজও ব্যাহত হয়। পরে শাটার কেটে ভেতরে প্রবেশ করে কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পাশের হোটেলের এক কর্মী জানান, তিনি রান্নাঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনতে পান। বাইরে বেরিয়ে দেখেন চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে প্রাণ রক্ষা করেন।
শোক প্রকাশ মোদির, ক্ষতিপূরণের ঘোষণা
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
এদিকে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন