বিদ্যুৎ গেলেই অচল নেটওয়ার্ক। মিলছে না নির্ভরযোগ্য কল ও ইন্টারনেট সেবা। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি গ্রাহকদের। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হলেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো সেই সুবিধা অধরাই রয়ে গেছে। পার্বত্য জেলা রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের সেবার বেহাল চিত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন স্থানীয় গ্রাহকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজস্থলীর বিভিন্ন এলাকায় টেলিটকের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত দুর্বল। অধিকাংশ সময় মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। ফলে জরুরি মুহূর্তে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন গ্রাহকরা। একটি ফোনকল সম্পন্ন করা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদান করাও অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিলেই টেলিটকের নেটওয়ার্ক প্রায় সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় টাওয়ারগুলোতে পর্যাপ্ত ব্যাকআপ পাওয়ার বা বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও রাজস্থলীতে তার কার্যকর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। ফলে সামান্য লোডশেডিংয়ের সঙ্গেই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
শুধু কল সেবাই নয়, ইন্টারনেট সেবার অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অধিকাংশ এলাকায় ৪জি সেবার কার্যকারিতা প্রায় নেই বললেই চলে। ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে শিক্ষার্থীরা অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধার মুখে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল লেনদেন ও অনলাইন যোগাযোগে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন অনলাইন সেবা গ্রহণেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আলাদা আস্থা ও প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেবার মানোন্নয়নের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় সেই আস্থা এখন হতাশায় রূপ নিচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থাই মানুষের অন্যতম ভরসা, সেখানে এমন পরিস্থিতি জনজীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।
স্থানীয় গ্রাহকদের প্রশ্ন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা কি শুধু শহরকেন্দ্রিক? পার্বত্য অঞ্চলের নাগরিকরা কি মানসম্মত টেলিযোগাযোগ সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন না?
রাজস্থলীবাসীর প্রত্যাশা, টেলিটক কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যাপ্ত ব্যাকআপ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং ৪জি সেবার মান বৃদ্ধি করবে।
রাজস্থলীর জনগণের দাবি, রাষ্ট্রীয় সেবার নামে দীর্ঘদিনের এই অবহেলার অবসান ঘটিয়ে আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। কারণ, যোগাযোগ কোনো বিলাসিতা নয়—এটি এখন নাগরিকের মৌলিক প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, পাহাড়ের মানুষও এ দেশের নাগরিক। রাষ্ট্রীয় সেবার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়। রাজস্থলীতে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সংকট শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, এটি নাগরিক অধিকার ও সমঅধিকারের প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করা।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন