চারদিকে উৎসবের আমেজ, ঘরে ঘরে নতুন জামাইদের আগমন। সাধ্যমতো বড় মাছ, খাসির মাংস আর রকমারি মিষ্টির গন্ধে ম-ম করছে পুরো গ্রাম।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার নলঘড়িয়া গ্রামে যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘জামাই মেলা’ ঘিরে বসেছিল এমনই এক জমজমাট মিলনমেলা। এই মেলার মূল আকর্ষণ হিসেবে সোমবার (১ জুন) বিকেলে নলঘড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা।
ডিজিটাল স্ক্রিনের এই যুগে গ্রামবাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় সংস্কৃতি ও বিনোদনকে ফিরিয়ে আনাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। খেলায় কোনো বয়স ভেদ ছিল না; গ্রামের প্রবীণ দাদারা যেমন মাঠে নেমেছিলেন, তেমনি মেতে উঠেছিল তরুণ ও কিশোরের দল।
মাঠের চারধারে তখন তিল ধারণের জায়গা নেই। দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো উৎসুক জনতা করতালির মাধ্যমে খেলোয়াড়দের উৎসাহ জোগান।
গ্রামের মুরুব্বিরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এই মেলা শুধু বিনোদন নয়, আমাদের শিকড়। মেয়ে-জামাইকে ঘরে এনে আপ্যায়ন করা আর সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে হাসিমুখে মেতে ওঠার এই আনন্দ নতুন প্রজন্মের বুকে আমাদের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখবে।
খেলা শেষে বিকেলে তালোড়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং বায়জিদ প্রাং এর পরিচালনায় এক পুরস্কার বিতরণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কমান্ডার মোনওয়ার করিম তালুকদার।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের লোকজ ঐতিহ্যই হলো বাঙালি সংস্কৃতির মূল প্রাণভোমরা। যুগ যুগ ধরে এই মেলা আর গ্রামীণ খেলাধুলাই আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। যুবসমাজের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
পুরস্কার বিতরণী শেষে এক আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন