× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

ছুরিকাঘাতে বিএনপি কর্মী নিহত, জামায়াত নেতার ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহে জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নেতার ছেলেসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (২০), আলী হোসেনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (৪০), তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে হুমায়ুন কবীর আকাশ (২৩) এবং চান মিয়ার ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪)। তারা প্রত্যেকেই নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে নিহতের বড় ভাই মোফাজ্জর হোসেন বাদী হয়ে জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলাম মাস্টারসহ ১০ জনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা ১২-১৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রধান আসামি মফিদুল ইসলাম মাস্টার ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য।

আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুরে আটক ৪ জনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠায় পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের গাঙ্গের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রানা মিয়া একই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। তিনি বিএনপির কর্মী ছিলেন। আহতরা হলেন, আশাদ (৩৬), মোফাজ্জল (৩৫), শাহান (৪৫), মুনসুর আলী (৫০), শাকিল (৩০) ও দিনি মিয়া (৩৫)।

নিহত রানার স্বজন মাহাবুল বলেন, জাতীয় নির্বাচনে আমরা বিএনপির পক্ষে কাজ করেছি এবং ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। এরপর থেকে জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলাম মাস্টারের সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলে আসছিল। গত সোমবার মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা ফুটবল খেলা শেষে আমাদের বাড়ির সামনে দোকানে তরল পানীয় কিনতে আসে। এ সময় এক কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে তরল পানীয় খাচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পক্ষের লোকজন তাদের হেয় করে কথা বলে। এতে মফিদুল মাস্টারের বাড়ির লোকজন ভোটের জেদ মেটাতে মারধরের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনার পর রাতে আবারও মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা আমাদের বাড়িতে হামলা করে। পরে মফিদুল মাস্টার নিজে আমাদের বাড়িতে এসে বিষয়টি মীমাংসা করে চলে যান।

পরে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মফিদুল মাস্টার অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন লোকজন নিয়ে এসে হামলা করেন। হামলার সময় মফিদুল মাস্টারের ছেলে মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকের পাশে আঘাত করেন। হামলায় আরও ৫ জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রানার ভাই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার ভাইকে বিনা কারণে মফিদুল মাস্টারের ছেলে ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করেছে। আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই, বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টার বলেন, আমি বা আমার ছেলে ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে ঘটেনি। গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, নিহত রানা বিগত নির্বাচনে আমার পক্ষে এলাকায় কাজ করেছে। সে কৃষক দল তথা বিএনপির সক্রিয় কর্মী। ইতোমধ্যে চিহ্নিত গুপ্ত রাজনৈতিক দলের সদস্যরা আমাদের এ নিবেদিত কর্মীকে খুন করেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছি। গুপ্ত রাজনৈতিক দলটিকে আমাদের নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার পর গ্রেপ্তার ৪ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!