স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই হামিদা আক্তার নামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বেশ কয়েক মাস ধরে ইতালিতে অবস্থান করছেন। এমনকি নিয়মিত বেতন-ভাতাও ভোগ করছেন। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পৌর এলাকার পাঁচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাঁচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা হামিদা আক্তারের স্বামী হাবিবুর রহমান ইতালিতে বসবাস করেন। সেখানে তার দুই সন্তানও রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩ মার্চ হামিদা আক্তার প্রথমে ১ মাসের ছুটি নিয়ে ইতালিতে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় পর্যায়ক্রমে তিনি ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল একবার, একই সালের ৩০ জুলাই ২য় বার ছুটি বৃদ্ধির আবেদন করেন। পরবর্তীতে তিনি ইতালিতে অসুস্থ হয়ে পড়ার অজুহাত দেখিয়ে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর আরও ৩ মাসের মেডিকেল ছুটির আবেদন করেন। এসব আবেদনের মাধ্যমে তিনি মোট ২০০ কার্য দিবস ইতালিতে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে একই সালের নভেম্বরে তিনি দেশে ফিরে এসে তার কর্মস্থলে যোগদানের আবেদন করেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চাকরি চলাকালীন কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বিদেশ ভ্রমণ করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন নিতে হয়। এমনকি বহিঃগমনের জন্য পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রেও অনুমোদনের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সহকারি শিক্ষিকা হামিদা আক্তার মন্ত্রণালয়ের কোন অনুমোদন না নিয়েই পাসপোর্ট তৈরি করে অধিদপ্তরের বিনা অনুমতিতে মাসের পর মাস ইতালিতে স্বামী-সন্তানের কাছে অবস্থান করেছেন। এ সকল ছুটি চলাকালীন সময়ে তিনি সরকারের সকল বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগম সহকারি শিক্ষিকা হামিদা আক্তারের ছুটি গুলো মঞ্জুর করে তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন।
হামিদা আক্তারের এ সকল অনৈতিক ছুটি ভোগের তথ্যটি ফাঁস হয় চলতি বছরের ৩০ মার্চ। বিগত রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩৮ দিন বন্ধ থাকার পরও তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মনিরুজ্জামানের নজরে আসে। এই ঘটনায় চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল হামিদা আক্তার বিদ্যালয়ে না আসায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রমজান ও ঈদের ছুটি কাজে লাগিয়ে হামিদা আক্তার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ইতালিতে গমন করে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক বা কর্মকর্তা বিদেশ ভ্রমণ করতে হলে ডিজি মহোদয়ের অনুমোদন নিতে হয়। আমি চৌদ্দগ্রামে যোগদান করার পর হামিদা আক্তারের বিগত দিনের বিদেশ ভ্রমনের ছুটি মঞ্জুরের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোন অনুমোদনপত্র পাইনি। বিগত দিনে তিনি কিভাবে বৈদেশিক ছুটি ভোগ করছেন তা আমার আগের কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, চলতি রমজানে ৩৮ দিন সরকার ঘোষিত ছুটি থাকার মধ্যে হামিদা আক্তার কোন ধরনের অনুমোদন না নিয়েই আবারও ইতালি ভ্রমণ করেছেন বলে তথ্য রয়েছে। আমি তাকে তার পাসপোর্ট জমা প্রদান করার জন্য নির্দেশ প্রদান করলেও তিনি এখনো তা জমা দেননি।
অভিযুক্ত হামিদা আক্তার বলেন, এই বিষয়ে সাংবাদিকদেরকে আমি কফিয়ত দিতে বাধ্য নই। যদি কফিয়ত দিতে হয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিবো।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন