× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

পর্যটন কেন্দ্রের অভাবে ঈদে সেতু ও নদীতীরে দর্শনার্থীদের ভিড় 

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

পিরোজপুর সদর, ভান্ডারিয়া, কাউখালী, নাজিরপুর, জিয়ানগর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে ভিড় করছেন। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পিরোজপুর সদর, ভান্ডারিয়া, কাউখালী, নাজিরপুর, জিয়ানগর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে ভিড় করছেন। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

জেলায় উল্লেখযোগ্য কোনো আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে পিরোজপুরের বিভিন্ন সেতু ও নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোয় পরিণত হয়েছে মানুষের বিনোদনের প্রধান গন্তব্যে। বিশেষ করে বেকুটিয়া সেতু, বলেশ্বর সেতু, জিয়ানগর সেতু এবং কঁচা নদীর তীরবর্তী ডলফিন চত্বর এলাকায় ঈদের তিন দিনজুড়ে ছিল উপচে পড়া দর্শনার্থীর ভিড়।
বিকেল গড়াতেই পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে হাজারো মানুষ ছুটে আসছেন কঁচা নদীর তীরে। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা নদীপাড়, মনোরম পরিবেশ, শীতল বাতাস এবং অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর (বেকুটিয়া সেতু) নান্দনিক দৃশ্য দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে এ সেতুতে ছোট-বড় একাধিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে সেতুতে বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নিয়ে আসাটাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ ছাড়াও ডলফিন চত্বরে ছোটখাটো মেলা এবং বিভিন্ন খাবারের দোকান শিশু-কিশোরদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

পিরোজপুর সদর, ভান্ডারিয়া, কাউখালী, নাজিরপুর, জিয়ানগর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে ভিড় করছেন। 

কাউখালি উপজেলা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সাইফুল বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এখানে এসেছি। কঁচা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দৃশ্য সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। নদীর পাড়ের বাতাস আর ট্রলারে ঘোরার অভিজ্ঞতা শিশুদের জন্য দারুণ আনন্দের ছিল।

ভান্ডারিয়া থেকে আসা কলেজছাত্রী মনিরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডলফিন চত্বরের ছবি দেখে এখানে আসার আগ্রহ তৈরি হয়। জায়গাটি খুবই সুন্দর। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় সেতু ও নদীর দৃশ্য অসাধারণ লাগে। অনেক সুন্দর ছবি তুলেছি।

পিরোজপুর সদর থেকে আসা নাজিয়া নিশাত বলেন, শহরে কোনো শিশু পার্ক নেই। ভালো কোনো পর্যটন কেন্দ্র নেই। তাই বেকুটিয়া সেতুতে বাচ্চা নিয়ে ঘুরতে এসেছি। শুনেছি একটা শিশু পার্ক হবে কিন্তু এখনো কোনো দৃশ্যমান কাজ দেখা যাচ্ছে না। 

আরেক শিক্ষার্থী তাবাসসুম সুলতানা বলেন, এই জেলা শহরে একটা শিশু পার্ক নেই। অথচ শুনি প্রকল্পর নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি হচ্ছে। একটি শিশু পার্ক হলে আমাদের শিশুরা সেখানে খেলাধুলা করতে পারত। তাহলে তাদের মনও ভালো থাকত, ঠিকমতো লেখাপড়াও করত। এ জন্য শিশুপার্ক খুবই প্রয়োজন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিক্রিও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন।

তবে জেলার মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় আক্ষেপও রয়েছে। পিরোজপুর জেলা সদরে একটি ডিসি পার্ক নির্মাণ করা হলেও সেখানে শিশুদের জন্য স্থায়ী খেলাধুলার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া পার্কটি শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় অনেক দর্শনার্থী সেখানে যেতে আগ্রহ দেখান না।

অন্যদিকে, ২০২০-২১ অর্থবছরে পিরোজপুর শহরের বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী মুক্তারকাঠী এলাকায় একটি শিশু পার্ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। এখন পর্যন্ত জমি ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ কিছু প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র। ফলে জেলার প্রায় ২০ হাজার শিশু একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, শিশু পার্ক প্রকল্পটিতে নতুন করে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শুরু করা হবে।

পর্যটন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী ও সেতুকেন্দ্রিক এসব স্থান এখন পিরোজপুরবাসীর ঈদ আনন্দের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জেলার পর্যটন ও বিনোদন খাতের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে একদিকে যেমন মানুষের বিনোদনের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। 
 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!