দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (৩ জুন) একদিনেই দেশের ৪৮টি জেলায় তাপপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ বিস্তৃত তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে দেশে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে, তবে এবার এখনো তা প্রবেশ না করায় গরমের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহ শুক্রবার (৫ জুন) পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শনিবার (৬ জুন) থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। তবে এতে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি, বরং ভ্যাপসা গরম অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর—এই পাঁচ বিভাগে তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এসব বিভাগের মোট ৪৫টি জেলায় তাপপ্রবাহ দেখা দেয়। এছাড়া চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেও তাপপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। সব মিলিয়ে ৪৮টি জেলা তাপপ্রবাহের আওতায় আসে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, চলতি বছরে এক দিনে এত বিস্তৃত এলাকায় তাপপ্রবাহের ঘটনা আগে দেখা যায়নি। তিনি জানান, চলতি মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে, তবে শুক্রবারের পর থেকে তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে, ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি জুন মাসে অন্যতম সর্বোচ্চ।
এপ্রিল ও মে মাসে সাধারণত সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে। তবে চলতি বছর ওই দুই মাসে তুলনামূলকভাবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল এবং এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, মৌসুমি বায়ু প্রবেশে এবার দুই থেকে তিন দিন দেরি হতে পারে। বায়ু প্রবেশের পর দেশজুড়ে বৃষ্টি বাড়তে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তাপপ্রবাহ কমলেও গরমের অনুভূতি পুরোপুরি কমবে না। আজ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, রাজধানীতেও সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।
গত বছর ২৫ মে দেশে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করেছিল, যা সাধারণত ৩১ মে’র মধ্যে হয়ে থাকে। তবে এবার দেরিতে বায়ু প্রবেশ করায় বৃষ্টিও শুরু হতে সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন