আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল- গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে লিচুর জন্য সবারই আলাদা অপেক্ষা থাকে। রসালো, মিষ্টি এই ফলের লালচে আভা অনেকের কাছেই লোভনীয়। তবে সম্প্রতি লিচু নিয়ে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বাজারজাতকরণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
গবেষণায় বলা হয়, খালি পেটে আধাপাকা লিচু খাওয়ার সঙ্গে হাইপোগ্লাইসিন নামক প্রাকৃতিক টক্সিনের সম্পর্ক থাকতে পারে, যা শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে বিভিন্ন দিক থেকে আলোচিত ও বিশ্লেষিত হচ্ছে।
অন্যদিকে বাজারে লিচুর সৌন্দর্য বাড়াতে কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও শোনা যায়। যদিও সব ক্ষেত্রে তা প্রমাণিত নয়, তবুও খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ফল কেনার সময় সতর্ক থাকতে বলছেন।
কীভাবে ভালো লিচু চিনবেন
লিচু কেনার সময় কিছু সহজ নিয়ম মানলে ভালো ও নিরাপদ ফল বেছে নেওয়া সম্ভব—
রং দেখে নির্বাচন : টাটকা লিচু সাধারণত উজ্জ্বল লাল বা হালকা গোলাপি রঙের হয়। অতিরিক্ত চকচকে বা অস্বাভাবিক গাঢ় লাল রং থাকলে সতর্ক থাকা ভালো। খোসায় কালচে বা বাদামি দাগ থাকলে ফলটি পুরোনো বা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
খোসার গঠন : আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিলে ভালো লিচু সামান্য নরম-স্পঞ্জির মতো অনুভূত হয়। খুব শক্ত হলে কাঁচা এবং খুব নরম হলে পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
খোসার গুটি ও ছিদ্র : খোসার গুটি যদি স্বাভাবিকভাবে সমান হয়, তবে ফলটি পরিপক্ব হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। ছোট ছিদ্র থাকলে পোকামাকড়ের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
ডালসহ লিচু বেছে নিন : ডালসহ বা গুচ্ছ আকারে থাকা লিচু তুলনামূলকভাবে বেশি টাটকা থাকে। শুকনো বা ভেঙে যাওয়া ডাল থাকলে বুঝতে হবে ফলটি অনেক আগে তোলা হয়েছে।
গন্ধ পরীক্ষা : টাটকা লিচুর বোঁটার কাছ থেকে হালকা মিষ্টি সুগন্ধ পাওয়া যায়। টক বা অস্বাভাবিক গন্ধ থাকলে তা এড়িয়ে চলাই ভালো।
আকৃতি ও ওজন : গোল বা ডিম্বাকৃতি এবং তুলনামূলক ভারী লিচুর মধ্যে সাধারণত রস বেশি থাকে। অস্বাভাবিক চ্যাপ্টা ফলের ক্ষেত্রে শাঁস কম এবং বীজ বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কিছু বাড়তি সতর্কতা
বাজার থেকে লিচু কিনে আনার পর পরিষ্কার পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে ধুয়ে নেওয়া ভালো। এতে ধুলা বা বাহ্যিক ময়লা কমতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পানিতে ভিজিয়ে রাখলেই রাসায়নিক পরীক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়—এ বিষয়ে সঠিক মান নিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
লিচুর খোসা ছাড়ানোর পর দ্রুত খেয়ে ফেলা স্বাস্থ্যকর। দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখলে স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হতে পারে।
লিচু পুষ্টিগুণে ভরপুর ও প্রাকৃতিকভাবে উপকারী একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। তবে অপরিপক্ব বা নিম্নমানের ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং বাজার থেকে সচেতনভাবে নির্বাচন করাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি।
সূত্র : টিভি৯ ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন