পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রাকৃতিক টিলা বা পাহাড় কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই টিলা কেটে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে হিল হেভেন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার মোহাজেরাবাদ বেগুনবাড়ি এলাকায় টিলা কেটে রিসোর্ট নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে টিলা কাটার ফলে বর্ষাকালে ধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরিবেশবিদদের মতে, বারবার টিলা কাটা হলে এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়বে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক টিলার মাটি কেটে সমান করছেন। নিচের অংশ ব্যাপকভাবে কেটে ফেলায় বৃষ্টির সময় ওপরের অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাটা অংশে ঘাস লাগানোর পাশাপাশি সেখানে পাকা স্থাপনার কাজও চলতে দেখা যায়।
জমির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মহিদুর রহমান জানান, মালিক বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি দাবি করেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেই কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সামান্য অংশ সমান করেছি। এখানে কয়েকটি রিসোর্ট কটেজ ও একটি সুইমিংপুল নির্মাণ করা হবে। টিলার বেশি অংশ কাটা হয়নি, আর যেখানে কাটা হয়েছে সেখানে ঘাস লাগানো হবে।
পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহেদা আক্তার বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রাকৃতিক পাহাড় বা টিলা কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউল রহমান বলেন, পাহাড় বা টিলা কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন