ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

তানোরে মশার জালায় অতিষ্ঠ পৌরবাসী, নিধনের উদ্যোগ নেই

তানোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

দিন-রাত কোথাও বসতে পারছেন না, যেখানেই বসে থাকছেন সেখানেই মশার উপদ্রব। শিক্ষার্থীরা ক্লাস রুমে মশার জালায় বসতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর তানোর পৌরসভায় মশা নিধনের বিষ স্প্রে করা হয়নি। যার কারণে মশার জালায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পৌর নাগরিকরা। বিগত কয়েক বছর ধরে মশা নিধন করা হয়নি বলে নাগরিকদের অভিযোগ।

পৌর কর্তৃপক্ষও চরম উদাসীন হয়ে পড়েছে। মশা নিধনের কোনো পরিকল্পনা নেই বললেই চলে। সকাল, বিকেল ও রাত কোথাও শান্তিতে বসে থাকতে পারছেন না জনসাধারণ। খরা মৌসুম শুরু হয়েছে, বইছে মাঝারি তাপ প্রবাহ। মশা নিধনের দ্রুত ব্যবস্থা না করলে বর্ষা মৌসুমে মশার প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন পৌর বাসী।

পালপাড়া মোড়ে কলিমের দোকানে চা খাওয়ার সময় পৌর নাগরিক বাক্কার ও হাবিবুর জানান, এক মিনিট বসে থাকার উপায় নেই। চারদিক থেকে ঘিরে ধরছে মশা। আর পৌরসভা থেকে মশা নিধনের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আবার যেকোনো সেবা নিতে গেলে ট্যাক্স ছাড়া হয় না। নাগরিক ও চারিত্রিক বা যেকোনো সনদ নিতে গেলে গুনতে হয় টাকা। তাহলে জনগণের করের টাকা দিয়ে কেন মশা নিধন হবে না- এমন প্রশ্ন জনসাধারণের।

উপজেলা মোড়ের চা দোকানি ডলার জানান, দিনের বেলা যাই হোক থাকা যায়। কিন্তু সন্ধ্যার আগ থেকে রাতে দোকানে থাকাই কষ্টকর। এত পরিমান মশা। অথচ কয়েক হাত দূরে পৌর ভবন। তারপর নিধনের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

নাগরিকরা জানান, পৌর ভবনের দক্ষিণ পশ্চিমে মুল রাস্তার পশ্চিমে রয়েছে ভাগাড়। দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা পড়ে থাকলেও পরিষ্কারের কোনো ব্যবস্থা নেই। হিন্দুপাড়া গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের  ড্রেনগুলো তেমন ভাবে পরিষ্কার করা হয় না। এ ছাড়াও গোল্লাপাড়া মাঠের পশ্চিমে রয়েছে ভাগাড়ের স্তূপ। তার সামনে খাল। আবর্জনায় ভরে গেছে খাল। বের হয় পঁচা দুর্গন্ধ। থানা মোড়ের উত্তরে মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ে যাবার রাস্তার দুপাশে রয়েছে ড্রেন। দিন রাত মশার উপদ্রব। মডেল স্কুলের পার্শ্বে বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল। রয়েছে কোচিং সেন্টার। 

থানা মোড়ের উত্তর পশ্চিমে মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের দক্ষিণ রাস্তা। রাস্তার ধারে পঁচা গন্ধ যুক্ত পানি। মার্কেটের নিচে মলসহ আবর্জনায় ভরা। থানা মোড়ের পশ্চিমে বালিকা স্কুল। থানা মোড়ের দক্ষিণে একে সরকার সরকারি কলেজ। পৌর সদরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঠাসা। তারপরেও মশা মারার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। 

শিক্ষকরা জানান, আমরা পৌর নাগরিক এটা বলা কষ্টকর। সামান্য মশা নিধনের বিষয়ে উদাসীন পৌর কর্তৃপক্ষ। সদরে এত পরিমাণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু কোনো গুরুত্ব নেই। মশা নিধনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বর্ষা মৌসুমে ভয়বহ আকার ধারণ করবে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশের আবর্জনা পরিষ্কার করে প্রতিনিয়ত মশা নিধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ দেশে হামের ব্যাপক প্রবাব বিস্তর করেছে। এ জন্য নিয়মিত মশা নিধনের বিষ স্প্রে করতে হবে। অথচ প্রতি বছর সরকারি ভাবে মশা নিধনের বরাদ্দ আসে। কিন্তু মশা নিধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না।

তানোর পৌরসভার প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও নাঈমা খাঁনের সরকারি  মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।