× UCB Sticker Card
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

সেতু দেবে যাওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ কয়েক গ্রামের মানুষের মধ্যে

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামে সেরার খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৩৮ বছরের পুরোনো একটি সেতুর নিচের অংশ দেবে গেছে। এতে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পটকা, বাউনি ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পটকা থেকে বাউনি বাজারগামী বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির প্রধান সড়কের ওপর অবস্থিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। গত ১৬ জুন সেতুর নিচের একটি বড় অংশ দেবে যায়। একই সঙ্গে সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এরপর সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা সেতুটি দিয়ে সব ধরনের চলাচল বন্ধ করে দেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর নিচের অংশে বড় ধরনের ধস নেমেছে। কয়েকটি স্থানে কংক্রিট ভেঙে গেছে এবং ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেতুর দুই পাশে বাঁশ ও সতর্কতামূলক চিহ্ন বসিয়ে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কাজে মানুষকে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

পটকা গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, সেতুটি অনেক দিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন নিচের অংশ দেবে যাওয়ায় নিরাপদে পারাপার করা সম্ভব নয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কৃষকেরা।

স্থানীয় বাসিন্দা সাজেদুল করিম বলেন, এটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। সেতু বন্ধ থাকায় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বেড়েছে।

স্কুলশিক্ষার্থী কবির হোসেন বলেন, প্রতিদিন এই সেতু দিয়েই স্কুলে যেতাম। এখন বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় বেশি লাগছে।

অটোরিকশাচালক আব্দুর রশিদ বলেন, সেতু দিয়ে প্রতিদিন যাত্রী পরিবহন করতাম। এখন যান চলাচল বন্ধ থাকায় আয় কমে গেছে। যাত্রীদেরও অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।

পিকআপচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, এই সেতুটি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেতু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই বেড়েছে।

গোসিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরুক আহমেদ বলেন, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বর্তমানে নিচের অংশ দেবে যাওয়ায় এবং ফাটল দেখা দেওয়ায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়কে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির বেহাল অবস্থার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, সেতুর নিচের অংশ দেবে যাওয়ার বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে অস্থায়ীভাবে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি অপসারণ করে সেখানে নতুন ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক। না হলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

Link copied!