× UCB Sticker Card
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

ওসির নির্দেশে হাসপাতালের গাছ কর্তন, জানতেন না ইউএনও-বন বিভাগ

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে সরকারি গাছ কর্তনের ঘটনায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতাল চত্বরে থাকা কয়েকটি গাছ হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেনের নির্দেশে কাটা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, হাসপাতাল চত্বরে থাকা পুরনো ও হেলে পড়া তিনটি বড় গাছ—জাম, আকাশমনি ও ভেটুল—কর্তনের কাজ চলছে। এর মধ্যে একটি গাড়ি ভর্তি গাছ ইতোমধ্যে স্থানীয় এক করাতকল মালিক গোলাপের মিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাকি গাছগুলোও পরিবহনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সাধারণত উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সরকারি গাছ কর্তন করা যায় না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হাকিমপুর উপজেলা বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা সাহাজান আলী জানান, হাসপাতালের গাছ কাটার বিষয়ে তাকে কেউ অবহিত করেননি। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

হাকিমপুর পৌরসভার প্রকৌশলী হাবিব আহমেদ বলেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। গাছ কাটার বিষয়েও আমি অবগত নই।

বিরামপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আনোয়ারুল হোসেন বলেন, সরকারি গাছ কর্তনের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম ও অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। হিলি হাসপাতালের গাছ কাটার বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, উপজেলার মাসিক সভায় হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের বিষয়টি আলোচনা হয়েছিল। যেহেতু আমি পৌরসভার দুটি ওয়ার্ডের দায়িত্বে আছি, সে কারণে গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন বলেন, হাসপাতাল চত্বরে থাকা তিনটি গাছ ঝড়ে হেলে পড়েছিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বিষয়টি উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। পরে ওসির নির্দেশে গাছগুলো কাটা হচ্ছে।

তবে হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আ. ন. ম. নিয়ামত উল্লাহ বলেন, সরকারি গাছ কর্তনের নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার কোনো ওসির নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। কেউ আমাকে জানায়নি। এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে দিনাজপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসূল রাখি বলেন, হাসপাতালের গাছ কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। সরকারি গাছ কর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া গাছ কাটার নির্দেশ কেন ওসি দেবেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং কার নির্দেশে গাছগুলো কর্তন করা হয়েছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি উঠেছে।

Link copied!