ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের ভারত সীমান্তকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও অযথা উত্তেজনা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ধরনের গুজবে কান না দিয়ে যাচাইবিহীন তথ্য, ভিডিও বা ফেসবুক লাইভ প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি।
শুক্রবার (২৬ জুন) সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ এবং সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম পৃথক বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে সিংগারবিল ইউনিয়নের কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, পোস্টে উল্লেখ করা ঘটনাগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি ছিল না। পরে এসব পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
সরাইল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, সিংগারবিল ইউনিয়নের নোয়াবাদী, নলগরিয়া, কাশিনগর ও কাসিমপুরসহ সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু কিছু অতিউৎসাহী ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, গুজবে কান দেবেন না। সীমান্ত এলাকায় লাঠি, দা বা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হওয়া, ভিডিও ধারণ কিংবা ফেসবুক লাইভ করে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো চেষ্টা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম বলেন, বিজিবি সব সময় সীমান্তে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, তৎপরতা বা তথ্য নজরে এলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার না করে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে। এতে গুজব প্রতিরোধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাও সহজ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় যেকোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দায়িত্বশীল আচরণ এবং যাচাই করা তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন