× UCB Sticker Card
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

পারভেজ খান

প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

অপকর্মের নাটের গুরু বুটেক্স ভিসি জুলহাস

পারভেজ খান

প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ (গ্রাফিক্স)

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ (গ্রাফিক্স)

দেশের টেক্সটাইল খাতের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)। অথচ বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নিয়োগ-বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সিন্ডিকেট-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের গুরুতর অভিযোগে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ, সংশ্লিষ্ট নথি এবং একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, ভিসি হওয়ার আগের রাজনৈতিক তৎপরতা থেকে শুরু করে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রকল্প ব্যয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া, পুরোনো আর্থিক কেলেঙ্কারি- সব মিলিয়ে বুটেক্সে তৈরি হয়েছে একটি প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষীগোষ্ঠী।

ইউজিসির একাধিক সূত্রও বলছে, ভিসির বিরুদ্ধে তাদের কাছেও অভিযোগের অন্ত নেই। ইউজিসির একটি সূত্রের ভাষ্য, ‘সরকার পরিবর্তনের আগেও তিনি নিজেকে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিতেন। এখনো একইভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।’

অভিযোগের মাত্রা এমন যে, নাম-পরিচয় প্রকাশ করে কথা বলতেও অনেকে ভয় পান বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘অভিযোগ থাকতেই পারে। তবে এ বিষয়ে আমার নির্দিষ্ট কিছু জানা নেই।’

ইউজিসি সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম বলেন, ‘আমি আলোচ্য বিষয়ে কিছু জানি না।’ তবে ইউজিসির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।’

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বুটেক্সের মতো একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যত সিন্ডিকেটের করিডরে নামিয়ে আনা হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে অ্যাকাডেমিক পরিবেশ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর।

আওয়ামী ঘনিষ্ঠতা, পরে ‘রূপ বদলে’ ভিসি

অধ্যাপক জুলহাস উদ্দিন বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রের অভিযোগ, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর আগ পর্যন্ত তিনি প্রকাশ্যে আওয়ামী ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বুটেক্সের ভিসি হওয়ার জন্যও সক্রিয় তৎপরতা চালিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, সে সময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং অতীতেও তিনি ভিসি নিয়োগের দৌড়ে ছিলেন।

তবে সে সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকায় শেষ পর্যন্ত তাকে না দিয়ে অন্যজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়- এমন অভিযোগও রয়েছে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক অবস্থান বদলে নিজেকে ভিন্ন ধারার মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি ২৭ অক্টোবর ২০২৪-এ ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২৮ অক্টোবর দায়িত্ব নেন বলে দাবি একাধিক সূত্রের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক আরও দাবি করেন, জুলহাস উদ্দিন ছাত্রজীবনেও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষমতাসীন রাজনীতির ছায়া ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন।

খণ্ডকালীন সদস্যপদ নিয়েও প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভিসি হতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) খণ্ডকালীন সদস্যপদ পান এবং সেটিকে প্রভাব বিস্তারের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, সে সময় ইউজিসির তৎকালীন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্র তৈরি করেন।

যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য সরকারি ব্যাখ্যা এখনো সামনে আসেনি, তবু বুটেক্সের ভেতরে বিষয়টি এখন বড় আলোচনায়।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর ‘সুবিধাভোগী’

শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তারা যখন শিক্ষকদের সমর্থন চাইতে গিয়েছিলেন, তখন অধ্যাপক জুলহাস তাদের পক্ষে দৃশ্যমান অবস্থান নেননি। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর সেই আন্দোলনের আবহকেই নিজের পক্ষে ব্যবহার করে তিনি ভিসি হওয়ার পথ মসৃণ করেন। অভিযোগকারীদের ভাষায়, ‘যে শিক্ষক আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াননি, তিনিই পরে সেই আবেগকে পুঁজি করে ক্ষমতায় উঠেছেন।’

ডিন থাকাকালে টেন্ডার-অনিয়মের অভিযোগ

বুটেক্সের টেক্সটাইল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন থাকাকালে অধ্যাপক জুলহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রয়সংক্রান্ত একাধিক কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগকারী কয়েকজন ঠিকাদার ও অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, সে সময় টেন্ডার, যন্ত্রপাতি গ্রহণ এবং বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম ছিল নিয়মিত ঘটনা। এমনও অভিযোগ রয়েছে, অর্থ লেনদেন ছাড়া কিছু ফাইল অগ্রসর হতো না।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত-ফল প্রকাশ্যে আসেনি।

টেস্টিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সি ফি কেলেঙ্কারি

অধ্যাপক জুলহাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে পুরোনো যে অভিযোগটি আবার সামনে এসেছে, তা ২০০৭ সালের। তখন টেক্সটাইল কলেজে টেস্টিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সি সার্ভিস খাতের সাড়ে ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, তদন্তের মুখে তিনি প্রথমে অর্থের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দেন।  পরে তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে চাকরি রক্ষায় ওই অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হন। বর্তমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে পুরোনো এই ঘটনাও টেনে আনছেন শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একাংশ। তাদের প্রশ্ন, যার বিরুদ্ধে অতীতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল, তিনিই কীভাবে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসক?

মাল্টিপল ক্যাম্পাসে পড়ানো

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের অভিযোগ, বুটেক্সের নিয়মিত দায়িত্ব ও ক্লাসের বাইরে অনৈতিকভাবে একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস নিয়েছেন অধ্যাপক জুলহাস উদ্দিন। অভিযোগকারীদের দাবি, ড্যাফোডিল, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, নর্দান ইউনিভার্সিটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটিসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তিনি ক্লাস নিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করেছেন।

বিতর্কের জায়গা হলো, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে বাইরে পড়াতে হলে নির্দিষ্ট অনুমতি ও আর্থিক হিসাবের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বুটেক্সের তহবিলে জমা দেওয়ার কথা থাকা ২৫ শতাংশ অর্থও তিনি নিয়মমাফিক জমা দেননি। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন- এই ছাড়পত্র তিনি কীভাবে পেলেন? আর যদি না পেয়ে থাকেন, তবে এত দিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন?

নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ

সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগগুলোর একটি নিয়োগ-বাণিজ্য ঘিরে। বুটেক্সের একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রভাবশালী নিয়োগ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটে ভিসির পাশাপাশি প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের নাম এসেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা-সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অস্বচ্ছতা, পক্ষপাত এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের জন্য সাক্ষাৎকার হয়। সেখানে পাঁচজন প্রার্থী অংশ নেন এবং নিয়োগ বোর্ড একজন যোগ্য প্রার্থীকে সুপারিশও করে। কিন্তু পরে সিন্ডিকেটে সেই নিয়োগ অনুমোদন পায়নি। অভিযোগ, এরপর ‘যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি’- এমন ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে আবারও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এর পেছনে আছে সিন্ডিকেটের পছন্দের প্রার্থীকে বসানোর পরিকল্পনা।

যদি এ অভিযোগ সত্য হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়মই নয়, রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার- দুটিই।

৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম : কাজ শেষ, টাকা কোথায়

বুটেক্সের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রশ্নটি এসেছে ‘বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ল্যাব-সংক্রান্ত কাজের অংশ হিসেবে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের একটি কাজ আড়াই বছর আগে শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক শরিফুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টাকা না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তার ভাষায়, ‘আড়াই বছর আগে কাজ পুরোপুরি শেষ করেছি। এখনো টাকা পাইনি। এ ব্যাপারে একটি কমিটিও করা হয়েছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেওয়া হয়নি, আবার অব্যবহৃত অর্থও সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়নি। বরং ওই অর্থ ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে রেখে মুনাফা ভোগ করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ইউজিসির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে এ-সংক্রান্ত অভিযোগের শেষ নেই। তিনি সব সময়ই নিজেকে সরকারের ঘনিষ্ঠজন বলে দাবি করেন। প্রকল্পের প্রতিটি কাজের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পিসিআর দাখিল করতে হয়। কিন্তু বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তিনি তা করছেন না। শুধু একটি প্রকল্পের কাজ নিয়েই তাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে কমপক্ষে ৫০ বার বলা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে এক বৈঠকেও এক মাসের মধ্যে লিখিতভাবে পিসিআর জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি তা দেননি। অথচ মন্ত্রণালয়ের চাপের মুখে আছে ইউজিসি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পের খরচ শেষে যে টাকা বাঁচে, সেটাও সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠাতে হয়। তিনি সেটাও করছেন না। যা করছেন, তা জেনেশুনেই করছেন- এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক, পুরোপুরি অবৈধ এবং কোনোভাবেই আইনসংগত নয়।’

বুটেক্স কি ব্যক্তিগত দখলদারিতে

বুটেক্সের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে যোগ্যতার চেয়ে ঘনিষ্ঠতা, নিয়মের চেয়ে নির্দেশ, আর প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত বলয় বেশি শক্তিশালী। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে ভিন্নমত নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এবং সিদ্ধান্তগুলো ক্রমেই একদল মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।

তাদের প্রশ্ন, একজন ভিসির বিরুদ্ধে যদি একই সঙ্গে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ, নিয়োগ-বাণিজ্য, প্রকল্পে অনিয়ম, পুরোনো অর্থ আত্মসাৎ, বাইরে ক্লাস নিয়ে ব্যক্তিগত আয় এবং টেন্ডার-অনিয়মের মতো অভিযোগ ওঠে, তাহলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট এত দিন কী করেছে?

এখন কী প্রয়োজন

বুটেক্সের মতো একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের অভিযোগ শুধু প্রশাসনিক বিতর্ক নয়, এটি সরাসরি দেশের টেক্সটাইল উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই অভিযোগগুলো ধামাচাপা না দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের প্রস্তাব হলো, ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, ডেপুটি রেজিস্ট্রারসহ সাম্প্রতিক সব নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফরেনসিক অডিট, উন্নয়ন প্রকল্প ও ৫ কোটি টাকার বিল-সংক্রান্ত বিশেষ আর্থিক নিরীক্ষা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার অনুমতি, আয় ও রাজস্ব জমার নথি যাচাই এবং ২০০৭ সালের আর্থিক অনিয়মসহ পুরোনো অভিযোগের প্রশাসনিক ফাইল পুনরুদ্ধার ও পুনঃপর্যালোচনা।

বুটেক্স এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রশ্ন একটাই- প্রতিষ্ঠান চলবে নিয়মে, নাকি সিন্ডিকেটে? আর এই প্রশ্নের উত্তর শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়; এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহিরও পরীক্ষা।

ভিসির বক্তব্য মেলেনি

আলোচ্য অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য জানতে বুটেক্স উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। গত কয়েক দিন তার মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

Link copied!