× UCB Sticker Card
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শিপন আহমদ, সিডনি (অস্ট্রেলিয়া)

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

সিডনিতে বেনজীর ইস্যুতে সরব বাংলাদেশি কমিউনিটি, অপপ্রচারের অভিযোগ

শিপন আহমদ, সিডনি (অস্ট্রেলিয়া)

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

বেনজীর আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

বেনজীর আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে ঘিরে সম্প্রতি সিডনির একটি বৈঠকের ছবি এবং তার কথিত সহযোগীদের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট, ছবি ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পুরোনো ছবি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নানা দাবি ও পাল্টা দাবি সামনে আসছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে পরিবেশবাদী লেখিকা ড. নার্গিস বানুকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ড. নার্গিস বানু দাবি করেন, সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। প্রকাশের পর থেকেই তাকে উদ্দেশ্য করে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার শুরু হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বেনজীর আহমেদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া পোস্টের পর কিছু ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার ভাষ্য, এসব ব্যক্তি নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নিতে এমন প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ড. নার্গিস বানু বলেন, দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে নিয়ে দেওয়া তার পোস্ট এবং পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পর তাকে ঘিরে অপপ্রচার শুরু হয়। তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে, তাদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালাচ্ছে।

নিজের একটি বহুল আলোচিত ছবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছবিটি ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ অনুষ্ঠানের। সেখানে তিনি একজন সাংবাদিক হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার নিতে অংশ নেন। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই অনুষ্ঠানের একটি মাত্র ছবি প্রচার করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সিডনিতে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালাচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে অতীতে সিডনিতে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন প্রবাসীকে নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে পাল্টা পোস্টে বলা হচ্ছে, কোনো সামাজিক বা পেশাগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বা কারও সঙ্গে ছবি তোলাকে রাজনৈতিক সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

সাম্প্রতিক একটি পোস্টে একজন প্রবাসী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি ছবি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার মতে, একটি ছবিতে বেনজীর আহমেদের সঙ্গে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেখা গেলেও, শুধু সেই ছবি দিয়ে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

কমিউনিটি নেতা আবিদুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যা বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে। তার মতে, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় তদন্ত হওয়া উচিত।

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য শিপন আহমদ বলেন, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ দেশ-বিদেশে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তার দাবি, একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তি আক্রমণ ও কুৎসা রটনার মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।

কমিউনিটির সচেতন মহলের মতে, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে বিতর্ক এখন শুধু বাংলাদেশেই নয়, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্ট ও মন্তব্যের কারণে বিভ্রান্তি বাড়ছে। তাদের মতে, বিষয়টির সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা জরুরি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বেনজীর আহমেদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা এবং ২০২৪ সালে সিডনিতে তার একটি বৈঠকের ছবি নিয়ে গত ১৮ জুন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

Link copied!