গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের ক্যাশ কাউন্টার থেকে গ্রাহকদের জমা দেওয়া বিদ্যুৎ বিলের ১ লাখ ৬০ হাজার ৬১২ টাকা চুরির রহস্য দুই বছর পর উদঘাটন করল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনায় দীর্ঘ দুই বছর পর মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের পর গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ জুলাই গোপালগঞ্জের কারারগাতী এলাকায় অবস্থিত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের ক্যাশ কাউন্টারে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা বিদ্যুৎ বিলের ১ লাখ ৬০ হাজার ৬১২ টাকা একটি শপিং ব্যাগে রাখা ছিল। সুযোগ বুঝে এক ব্যক্তি ক্যাশ কাউন্টারের কাচের ফাঁক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ক্যাশ কাউন্টারের সামনে অবস্থান করে দুপুর ২টা ৪৭ মিনিটে চুরির ঘটনাটি ঘটায়। ঘটনার পরপরই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ওমর ফারুক বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই গোপালগঞ্জ সদর থানায় দণ্ডবিধির ৩৮০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে থানা পুলিশ প্রায় ৯ মাস ১৬ দিন পর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করে। তবে বাদীপক্ষ আদালতে নারাজি আবেদন করলে আদালতের নির্দেশে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই, গোপালগঞ্জ।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার শেখ মনিরুজ্জামান মিঠুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মো. নজরুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মো. টিটন খান (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। পরে জানা যায়, তিনি অন্য একটি মামলায় গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। গত ৫ জুলাই আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
পরবর্তীতে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে টিটন খান চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। গত ১৫ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, টিটন খান একজন পেশাদার পকেটমার। ঘটনার দিন তিনি খুলনা থেকে বাসযোগে গোপালগঞ্জে এসে প্রথমে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এলাকার আশপাশে পকেটমারির সুযোগ খুঁজছিলেন। পরে সুযোগ না পেয়ে গোপালগঞ্জ বাজার এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় এক ব্যক্তিকে অনুসরণ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ক্যাশ কাউন্টারের সামনে যান। সেখানে কাউন্টারের ভেতরে রাখা টাকাভর্তি শপিং ব্যাগ দেখতে পেয়ে কাচের ফাঁক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং খুলনায় পালিয়ে যান।
পিবিআই আরও জানায়, সিডিএমএস (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) পর্যালোচনায় টিটন খানের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরির অভিযোগে চারটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন