বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে ঘিরে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রিয় দল আর্জেন্টিনা ও স্পেনের সমর্থকেরা বড় পর্দায় খেলা দেখা, ভূরিভোজ ও প্রীতিভোজের আয়োজন করেছেন। তবে ব্রাজিল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ায় দলটির সমর্থকদের মধ্যে নেই চিরচেনা উৎসবের রঙ।
রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় অন্তত অর্ধশত স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি কোথাও খাসি জবাই, কোথাও মুরগি কিংবা ডাউল দিয়ে খিচুড়ির আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন আয়োজনে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।
নিজের দেশ বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললেও ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনায় তার কোনো প্রভাব পড়েনি। প্রিয় দলের জয় প্রত্যাশায় সমর্থকেরা যেন নিজেরাই হয়ে উঠেছেন সেই দলের প্রতিনিধি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আর্জেন্টিনা ও স্পেনের সমর্থকেরা নিজেদের দলের পক্ষে নানা পোস্ট ও শুভকামনা জানাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খেলা উপলক্ষে গান-বাজনা ও ব্যান্ড দলেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফাইনালে প্রিয় দলের জয় উদযাপনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছেন সমর্থকেরা।
এদিকে ব্রাজিল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ায় দলটির সমর্থকদের মধ্যে আগের মতো উৎসবের আবহ দেখা যাচ্ছে না। ফলে তাদের অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত।
চলনবিল সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি নুরুজ্জামান সবুজ মাস্টার বলেন, ঐতিহ্যগতভাবেই বাঙালিরা ফুটবলপ্রেমী। ভাঙ্গুড়ার বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, বিশ্বকাপ এখানে শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়, এটি একটি সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। বড় পর্দায় একসঙ্গে খেলা দেখা ও ভূরিভোজের আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতিকে আরও দৃঢ় করবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন