বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, 'বিএনপি সরকার গঠন করার পর তাদের মধ্যে কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার সৃষ্টি হয়েছে। রক্ত দিয়ে অর্জন করা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জাতীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রতি ভঙ্গ করে যেভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাতে করে দেশ সংঘাতের দিকে চলে যাচ্ছে।'
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা ১২টায় নীলফামারী আল হেলাল একাডেমির হলরুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'আমরা আশা করেছিলাম জুলাই সনদ, সংস্কার ও সংবিধান সংস্কারসহ সব বিষয় সংসদে আনা হবে। বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে এই সংকট নিরসন করবেন। সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে জাতিকে রক্ষা করবেন। কিন্ত বিএনপি তা করেনি।'
"সংবিধানের সংশোধন নয়, সংস্কার চাই" উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভারসাম্যহীন। অসীম ক্ষমতার অধিকারী ছিল বলেই শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদী প্রধানমন্ত্রীর জন্ম হয়েছে। আমরা এমন একটা সংবিধান চাই, যেই ক্ষমতায় যাবে সে যেন আর একটা হাসিনা হয়ে জন্ম নিতে না পারে। তাই এখনও সময় আছে সংঘাত এড়িয়ে সংসদে এর সমাধান করুন।'
"জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বিএনপি" মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'জুলাই সনদের ভিক্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় কার্যকর করার জন্য সবাই একমত হয়েছেন। শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ তে ভোট দিয়েছে। বিএনপি তাদের ৩১ দফার প্রথম দফায় বলেছিল আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংস্কারের জন কমিশন গঠন করব। এখন বলে সংস্কারের জন্য নয় সংশোধন জন্য কমিশন করব। সংস্কার ও সংশোধনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সংশোধনতো জুলাই আন্দোলনের লক্ষ ও চেতনা ছিল না। আমরা চাই সংবিধানের পুরো কাঠামোকে পরিবর্তন করতে হবে। দর্শনগত ও বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন করতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিএনপি মনে করে গণভোটের রায় যদি কার্যকর হয়, সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তন হয় তাহলে বিএনপির আর দলীয়করণ, দূনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয়ে সমস্ত সাংবিধানিক পদে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে দেশটাকে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যেতে পারবে না। সেই কারণে বিএনপির তাদের প্রধানমন্ত্রীকে কর্তৃত্ববাদী রাখতে চান। এই কারণে গণভোটের রায়কে মানছেন না।'
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'দেশে আদিপত্যবাদি শক্তির ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তারা বাংলাদেশ দখল করতে চায়, রংপুর দখল করতে চায়, চট্রগ্রামকে আলাদা করতে চায়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, পুশইন চলছে। আপনারা নতুন করে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদি শক্তির আগমন সামলাবেন, দিল্লির ষড়যন্ত্র সামলাবেন নাকি ১১ দলের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে সামলাবেন।' ১১ দলের দাবি মেনে নিয়ে বৃহত্তর স্বার্থে অন্য শক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশের ষড়যন্ত্র রুখতে হলে বিরোধী দল ও সরকারি দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রস্তাব দেন তিনি।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ, নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ওবায়দুল্লাহ্ সালাফী, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন