কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকের পরও নিজেদের প্রধান দাবিতে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান আরও কঠোর করেছে সিজেপি। আগামীকাল শনিবার দুই পক্ষের মধ্যে ফের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
আগের দফার আলোচনার তুলনায় রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এনে এবার বৈঠকটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির সাবেক সভাপতি জে পি নাড্ডার বাসভবনের পরিবর্তে কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বৈঠকের স্থান পরিবর্তন করে একটি নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত সরকারের আরও সমতার ভিত্তিতে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
সরকারের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন জে পি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। অন্যদিকে, সিজেপি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলের জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে রাঙ্কা জানান, সরকার সংগঠনটির দুটি দাবিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে—নিট পরীক্ষায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর ও অন্যান্য আইনি মামলা প্রত্যাহার।
রাঙ্কা বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে সরকার আগামীকাল বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে।’
তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে এখনো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সিজেপি।
বৈঠকে সিজেপির পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এতে পুনরায় বলা হয়, তাদের মূল দাবিগুলো ‘অপরিবর্তনীয়’।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমরা স্পষ্টভাবে একমত হয়েছি যে, আমাদের দাবিগুলো—শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, নিট পরীক্ষার্থীদের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া—অমীমাংসিত রয়েছে। পাশাপাশি, ভারত সরকার, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের প্রধান এবং দিল্লি পুলিশ কমিশনারের উচিত তাদের বাহিনীর হাতে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।’
আগামীকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত সরকারের জবাবের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সিজেপি। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ না করা হলে আন্দোলন আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।
সিজেপির এই কঠোর অবস্থান কর্মী সোনম ওয়াংচুকের অবস্থানের থেকে ভিন্ন। সম্প্রতি তিনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে পূর্বশর্ত না করেই ২৬ দিনের অনশন শেষ করেছেন। এতে সিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে ওয়াংচুকের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।
উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরে সিজেপির নেতৃত্বে মাসব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। কংগ্রেসও জানিয়েছে, এ বিষয়ে কোনো আপস করা যাবে না।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক ভিডিও বার্তায় জানান, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার নতুন আইন প্রণয়নের কাজ করছে। এর এক দিন পরই এসব ঘটনা সামনে আসে।
যদিও প্রস্তাবিত বিলের খসড়া এখনো প্রকাশ করা হয়নি, আজ শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আইনে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করার সংশোধনী অনুমোদন করেছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এ ধরনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ন্যূনতম সাজা তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন