× UCB Sticker Card
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শাহীনুর ইসলাম শানু

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ১১:২২ পিএম

তৃতীয় পক্ষের কব্জায় ডিমের বাজার

শাহীনুর ইসলাম শানু

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ১১:২২ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ঢাকায় ডিমের দাম বেড়েই চলেছে। একদিকে সারা দেশে অতিবৃষ্টিতে উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম ঘাটতি। ফলে গত এক মাসের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতিটি মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে দেড় টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে বেড়েছে ৪ টাকা। সব মিলে কৃত্রিম সংকটের দিকে যাচ্ছে ডিমের বাজার।

তবে দামের বিশাল ফাঁকফোকরে ডিমের দামের অতি মুনাফা ঢুকছে তৃতীয় পক্ষের পকেটে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে প্রতি পিসের দাম ছিল ১৬ টাকার বেশি অর্থাৎ ৬৫ টাকা হালি। সে সময়ে ডিম আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। দুই বছর পরে নতুন সরকারের আমলে সেদিকেই ডিমের বাজার এগিয়ে যাচ্ছে- বলেন অনেক ব্যবসায়ী।

ডিমের অতি মূল্যবৃদ্ধির কারণে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় খাবার কম কিনছেন ভোক্তারা। একই সঙ্গে অতিবর্ষণে সরবরাহ ঘাটতিতে বেড়েছে সবজির দামও। যার কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের ক্ষোভ বাড়ছে। একদিকে অপুষ্টির  শিকার, অপরদিকে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া আশঙ্কা রয়েছে। যার কারণে সরকারকে ডিম আমদানি করতে অনেকে সুপারিশ করেন।

ঢাকার কারওয়ান বাজারের ডিমের ব্যবসায়ীরা জানান, জুন মাসের শুরুতে শতকরা হিসাবে (পাইকারি) প্রতিটির দাম ছিল সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ টাকা থেকে ৯ টাকা। এখন দাম বাড়ায় তা সাড়ে ১০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে ঢাকার খুচরা বাজারে মুরগির ডিমের প্রতিটির মূল্য ১২ টাকা অর্থাৎ ৪৮ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ ভোক্তারা। এসব ডিম ময়মনসিংহ, রংপুর এবং কিশোরগঞ্জ থেকে আসছে। যাকে ঘিরে একশ্রেণির মধ্যম শ্রেণির ব্যবসায়ী অতি বাড়তি মুনাফা তুলে নিচ্ছে। অপরদিকে ভোগ্যপণ্যের মূল্যকে ঘিরে ভোক্তাদের হয়রানি করছেন তারা।

দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ কমের বিষয়ে ঢাকার কারওয়ান বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রতি বছর আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র এবং আশ্বিন মাসে ডিমের দাম বাড়ে। এবার আগেই দাম বেড়েছে এবং ভোক্তা পর্যায়ে অনেক বেশি বেড়েছে।’ বর্তমানে ‘লাল ডিম ১২০, সাদা ১১৪ টাকা ডজন হিসাবে বিক্রি করছি। এক মাস আগেও ১০৮-১১০ টাকা ডজন বিক্রি করছি। বর্তমানে প্রতি পিস সর্বোচ্চ ১০ টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।’

তবে সর্বোচ্চ দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন খুচরা দোকানগুলোতে। এ সম্পর্কে ঢাকার মগবাজারে রাজ্জাক ট্রেডার্সের মালিক মেহেদি হাসান বলেন, ‘মুরগির ডিমের হালি ৪৮ টাকা। প্রতিটির দাম ১২ টাকা।’ তিনি বলেন, ‘বেশি দামে কিনি তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।’

মগবাজারে প্রতি পিস ১২ টাকা ডিমের দামের কথা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন কারওয়ান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর। গতকাল রোববার তিনি বলেন, ‘এটা হতে পারে না। একদিকে কাস্টমার নাই, ব্যবসা খুব খারাপ। তার ওপরে অতি বেশি দাম নেওয়ায় তারা অন্যায় করছেন।’

কারওয়ান বাজারে কিচেন মার্কেটের ডিম ব্যবসায়ী ভাই-ভাই এগ শপের একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘খুব বেশি দাম বাড়েনি। কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন দোকানে অনেক কথা ছড়িয়ে দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক’ বলেন তিনি।

ঢাকার তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. আমানত উল্লাহ বলেন, ‘আমরা ১০০ পিস ডিম এক হাজার ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করতে পারব। সেই হিসাবে খুচরা পর্যায়ে ১১ টাকা ০৫ পয়সা। কিন্তু তা করছি না।’

তবে সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারে বর্তমান দামের কোনো মিল নেই। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে ফার্মের মুরগির ডিম। কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটে ভাই ভাই এগ শপে প্রতি ১০০ পিস সাদা ডিমের দাম সর্বোচ্চ ৯৫০ টাকা, লাল ডিম ১০৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলেন দোকানে মালিক সঞ্চয় চক্রবর্তী।

Link copied!