খেলার মাঠের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তরুণদের মধ্যে মাদক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উপদেষ্টা এম নাসের রহমান।
সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত পুলিশ-নাগরিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এম নাসের রহমান বলেন, একটি এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ থাকলে তরুণরা ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় সময় কাটায়। এতে তারা মাদক ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে থাকে। কিন্তু খেলাধুলার সুযোগ কমে গেলে অলস সময় তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাদকের দিকে ঠেলে দেয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটাচ্ছেন। খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি পেলে এ ধরনের আসক্তি ও অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তাই প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে মানসম্মত খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছেন।
মাদক নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পুলিশের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে এমপি বলেন, পুলিশের মধ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষায়িত উইং থাকা প্রয়োজন, যা সমন্বিতভাবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে স্কুল-কলেজে নিয়মিত সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন করা উচিত। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত তরুণদের শুধু শাস্তি না দিয়ে দ্রুত শনাক্ত করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ, প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল প্রবেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এম নাসের রহমান বলেন, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ফেনসিডিল কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এটি শুধু ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নয়, বরং বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। অনেক সময় বড় চালানের সামান্য অংশ আটক হলেও মূল অংশ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এককভাবে চেষ্টা করলেও অধস্তন কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা না থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।
সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম।
এ সময় বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি মৌলভী ওয়ালী সিদ্দিক, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক বকশি মিছবাউর রহমান, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট মৌলভীবাজারের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুনু কান্ত দত্ত, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ুন এবং সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম, মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন