× UCB Sticker Card
সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ফারুক আহমেদ শাহেদ 

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

প্রার্থী দ্বন্দ্বে জামায়াত-এনসিপি

ফারুক আহমেদ শাহেদ 

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ। জাতীয় নির্বাচনের আগে কৌশলগত সমঝোতায় এক সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্থানীয় নির্বাচনে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র প্রার্থী নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই দলের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে। একই সময়ে শরিকদের মধ্যে মতবিরোধের জেরে ১১-দলীয় জোট থেকে খেলাফত মজলিসের বেরিয়ে যাওয়ায় জোটের মধ্য অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।

জোট শরিকদের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচনের কৌশল ও মতের অমিল স্পষ্ট হচ্ছে। জোটের একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের ধরন নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হলেও জোটের এনসিপি ব্যতীত বেশির ভাগ শরিক সংসদ নির্বাচনের মতো সমঝোতার ভিত্তিতে ভোটের মাঠে নামার পক্ষে। এমন প্রেক্ষাপটে জোটের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জোটের দায়িত্বশীল কয়েকটি সূত্রের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে এককভাবে প্রার্থী দিতে চায় জামায়াত। তবে অন্য দলগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার পক্ষে মত দিচ্ছে।

এদিকে ডিএসসিসির মেয়র পদে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার বিষয়টি মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এর আগেই এই সিটিতে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নাম ঘোষণা করেছিল জামায়াতের জোটসঙ্গী দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এদিকে এনসিপি মেয়র প্রার্থী হিসেবে রয়েছে দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবের নাম।

আসিফ মাহমুদ এখন এনসিপির নীতিনির্ধারকদের একজন। দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন। এনসিপি তাকে প্রার্থী ঘোষণার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী চূড়ান্ত করায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপি মুখোমুখি অবস্থান নিবে।

এদিকে সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটে অংশ নেননি। এনসিপির একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, আসিফ মাহমুদকে সমর্থন দিতে তখন জামায়াতের দিক থেকে আপত্তি ছিল। এটাকে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতা না হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। আবার কারো কারো মত, দুই দলই এখন নিজেদের মতো করে প্রার্থী ঠিক করছে।

এনসিপির সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আপাতত দলের মনোযোগ একক প্রস্তুতিতে। যেহেতু তপশিল ঘোষণার বিষয়টি পরিষ্কার হয়নি, ফলে নির্বাচনি জোট বা সমঝোতা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সাদিক কায়েমকে জামায়াতের প্রার্থী করার বিষয়টি নিয়ে এনসিপিতে আসিফ মাহমুদের সমর্থকদের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বের সম্মুখভাগে ছিলেন আসিফ মাহমুদ। অন্তর্বর্তী সরকারে স্থান পাওয়া তিন ছাত্র উপদেষ্টার মধ্যে তিনি একজন। নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর সরকার থেকে পদত্যাগ করে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলের মুখপাত্র হন আসিফ মাহমুদ। ঢাকা-১০ সংসদীয় আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হননি।

এনসিপির এক নেতা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনের সময় জামায়াতের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে আসিফ মাহমুদের ভূমিকা ছিল নেতিবাচক। সে কারণে তার প্রতি জামায়াতের আপত্তি রয়েছে বলে ধারণা রয়েছে।

এনসিপি এখন পর্যন্ত এককভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটিসহ পাঁচ সিটির মেয়র পদের পাশাপাশি ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত ২৯ মার্চ তারা পাঁচ সিটিতে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। সেখানে ঢাকা দক্ষিণে দলটির প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদের নাম আসে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে অন্যান্য দলের মতো এনসিপির নেতারাও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অন্য দলের অনেকের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করছেন।

এদিকে সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোট থেকে ৩০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৬টিতে জিতেছে এনসিপি। এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘৩০টি আসনে নির্বাচন করা এবং ২৭০টি আসনে নির্বাচন না করার কারণে এনসিপির তৃণমূল অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ তাই স্থানীয় নির্বাচনে ৭০ শতাংশ জায়গায় এনসিপি প্রার্থী রাখতে চায়।

এনসিপির নেতারা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনে জোটের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যদি নতুন সম্ভাব্য জোট থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আসিফ মাহমুদকে ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সমর্থন দেয়, আর উত্তর সিটিতে মামুনুল হককে ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপি সমর্থন দেয়, তাহলে একটা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জোট-সমঝোতা প্রসঙ্গে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘সমঝোতা হলে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে বিরোধী দলের প্রার্থীদের যদি বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়, তখন শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে। তবে এখন প্রতিটি দল তার সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী করার দিকেই মনোযোগী।’

এদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা সাদিক কায়েম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের অনেক প্রার্থীর প্রচারে অংশ নিয়ে তিনি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চেয়েছিলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়। ফলে জামায়াত সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করার পর এটি অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ জামায়াতের সমর্থন পাচ্ছেন না।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা উত্তর সিটিতে দলটির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। মানুষ ভোট দিয়ে যাকে নির্বাচিত করবে, তাকে মেনে নিতে হবে। তা না হলে সরকারকে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হতে পারে।’

জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু করতে জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার হতে হবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ভোটের জন্য প্রস্তুত।’

জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি জামায়াত সারা বছর ধরেই নেয়। সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম নেই। তবে সবেমাত্র এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।’  জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা জানান, রাজধানীর দুটি মেয়র পদেই দলসমর্থিত প্রার্থী থাকবে।

প্রসঙ্গত, দেশের প্রায় সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় প্রশাসক বসানো হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান আগেই জানানো হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। তা সম্ভব না হলে আগামী বছরের প্রথম দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

Link copied!