সীমান্তবর্তী ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে ড্রাগন ফল চাষ করা হচ্ছে। শীতকালে রাতে দিনের পরিবেশ সৃষ্টি করে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকেরা আর্থিক স্বচ্ছলতা ও লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সেচের সীমাবদ্ধতা বানিজ্যিক উৎপাদনে কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাতে শত শত বৈদ্যুতিক বাতি একসাথে জ্বলে উঠলে মনে হয় আকাশে তারা জ্বলে উঠেছে। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে।
ড্রাগন ফল শীতকালে প্রাকৃতিকভাবে ফুল দেয় না। তবে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রেখে রাতে আলো জ্বালালে গাছে ফুল ও ফলের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এতে ফলন বৃদ্ধি পায় এবং অসময়ে বাজারে ড্রাগনের দাম দ্বিগুণ পাওয়া যায়।
মহেশপুর উপজেলার বেলেমাঠ, বাথানগাছি, ভাটপাড়া, কালুহুদা, পাতিবিলা, নাটিমা ও নস্তিসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা জানান, চায়না থেকে সংগ্রহ করা বিশেষ ধরনের লাইট ব্যবহার করে গতবছর এই পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন।
প্রথম বছরে ভালো ফলন পেয়ে উৎসাহিত হয়ে অনেকেই এই পদ্ধতি গ্রহণ করছেন।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর বাগানে সারি সারি আলো জ্বলে ওঠে, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। এভাবেই কৃত্রিম আলোয় ড্রাগন চাষ নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ড্রাগন সাধারণত গরমকালে ফলন দেয়। কিন্তু লাইটিং পদ্ধতিতে শীত মৌসুমেও ফল পাওয়া যাচ্ছে। রোগবালাই দমন, সার প্রয়োগ ও শাখা-প্রশাখা পরিচর্যা নিয়ে আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি।
তিনি আরও জানান, এ বছর মহেশপুর উপজেলায় প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, এলাকার মাটি, আবহাওয়া ও বাজার সম্ভাবনা মিলিয়ে ড্রাগন চাষ এখন অন্যতম লাভজনক বাণিজ্যিক ফসল।
কৃত্রিম আলোয় ড্রাগন চাষ এখন মহেশপুরের কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার নতুন ঠিকানা হয়ে উঠেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন