× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৯:১০ পিএম

টিউমার অপসারণ না করেই সেলাই

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৯:১০ পিএম

মহেশপুর নাসিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

মহেশপুর নাসিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

জরায়ুতে টিউমার অপারেশন করাতে এক সন্তানের জননী আন্না খাতুনকে নেওয়া হয় মহেশপুর নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি শেষে জরায়ুতে টিউমার অপারেশনের কথা জানান নাসিং হোমের মালিক আজাদুর রহমান। ১৯ হাজার টাকার চুক্তিতে পরের দিন রাতে জরায়ুর টিউমার অপারেশনের জন্য অপারেশন থিয়েটরে নিয়ে যাওয়া হয় আন্না খাতুনকে।

অপারেশন শেষে তাকে পেট সেলায় করা অবস্থায় বেডে দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অপারেশন করা চিকিৎসকরা জানান, আইসিইউ সাপোর্ট না থাকায় টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। তারা বলেন, এ অপারেশন এখানে সম্ভব নয়। পেট কাটার ক্ষত শুকালে খুলনায় নিয়ে গিয়ে পুনরায় অপারেশন করাতে হবে।

এরপর থেকে জরায়ু টিউমারের যন্ত্রণার সঙ্গে পেট কাটার যন্ত্রণা নিয়ে ১০ দিন যাবৎ ওই নাসিং হোমে থাকার পর সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) আন্না খাতুনকে রিলিজ দেওয়া হয়। আন্না খাতুন মহেশপুর শহরের পাতিবিলা গ্রামের নুর আলমের স্ত্রী। এ ব্যাপারে তার স্বামী নুর আলম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এর আগে গত ২৫ নভেম্বর ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে সরকারি ওষুধ অবৈধ মজুদ ও ব্যবহারের দায়ে মহেশপুর নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও নার্সকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা করা হয়।

জানা গেছে, ৫ ডিসেম্বর মহেশপুর নাসিং হোমে আল্ট্রাসনোগ্রাফি শেষে জরায়ুতে টিউমার অপারেশনের জন্য মালিক আজাদুর রহমান ১৯ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। ভুক্তভোগীর স্বামী নুর আলম টাকা দিতে রাজি হলে পরের দিন রাতে চিকিৎসক ফাহিম ও ফরহাদ অপারেশন করেন। কিন্তু টিউমার অপসারণ না করে অপারেশন থিয়েটর থেকে পেট সেলায় করা অবস্থায় আন্না খাতুনকে বেডে দেওয়া হয়।

আন্না খাতুনের স্বামী বলেন, ‘ওরা আমার স্ত্রীকে ভুল অপারেশন করেছেন। প্রায় এক ফুটেরও বেশি পেট কাটা হয়েছে। আমার স্ত্রীর অবস্থা আগের তুলনায় আরও খারাপ হয়ে গেছে। আইসিইউ সাপোর্ট না থাকায় টিউমার অপসারণ করা হয়নি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। ভালোভাবে পরীক্ষা না করিয়ে কেন আমার স্ত্রীর পেট কাটা হলো আমি এর বিচার চাই।’

অপারেশন করা চিকিৎসক ফাহিম বলেন, ‘টিউমারটি জটিল আকার ধারণ করায় অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এসব অপারেশনে আরও উন্নতমানের কিছু পরীক্ষা করানো দরকার। তবে আমাদেরকে শুধু টিউমারের কথা বলা হয়েছিল। আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে সম্পূর্ণ অবস্থা ধরা না পড়ায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে। এ অপারেশনে আমরা কোনো অর্থ নিইনি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার নিপা বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে নার্সিং হোমের মালিক ও অপারেশন করা ডাক্তাদের দেখা করতে বলা হয়েছে। রোগীর যাবতীয় রিপোর্ট ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এদিকে, শুধুমাত্র একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কীভাবে এত বড় অপারেশন শুরু করা হয়েছে, এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Link copied!