ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘ধান কাটার ভিডিও’ করায় বাকপ্রতিবন্ধীকে কুপিয়ে জখম

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
প্রতীকী ছবি

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনার জেরে কাঁচি দিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী তরুণকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে গেলে বাবার ওপরও হামলা চালায় স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী। এ ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাচ্চু।

শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালমেঘা ইউনিয়নের কালিবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন: মো. রবিউল ও তার বাবা সিদ্দিক খান। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

বাকপ্রতিবন্ধী রবিউলের বাবা সিদ্দিক বলেন, ‘আমাদের বাড়ির সামনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। উত্তারাধিকার সূত্রে এই জমির মালিক আমার মা সুফিয়া। কিন্তু আমার মায়ের চাচাতো ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জমির থেকে বঞ্চিত ও ভূমিহীন করে রেখেছে। সম্প্রতি আমরা জমির সব কাগজ তুলে দেখতে পাই, জমি আমার নানার নামে। সেই সূত্রে এই জমির মালিক আমার মা সুফিয়া। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসে একটি নালিশি মামলা করেছি। মামলার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনেও আমাদের ঠকানোর বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ সকালে হঠাৎ করেই আমরা দেখতে পাই, একদল বহিরাগত আমাদের জমির ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর বিষয়টি আমার পরিবারের সদস্যরা পাথরঘাটা থানায় জানাতে যায়। এ সময় আমার বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে ঘুম থেকে উঠে রাস্তায় বের হয়ে দেখে, অনেক মানুষ আমাদের জমির ধান কাটছে। বিষয়টি সে মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিল। এ সময় বহিরাগত সন্ত্রাসী মো. লিটন (পিতা- হোসেন), বাচ্চু ওরফে কালা বাচ্চু (পিতা- সাহেব আলি), সাগর বিশ্বাস (পিতা- সোরাব বিশ্বাস), হামেজের ছেলে বাচ্চু মিয়াসহ একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা করে।

হামলাকারীরা ধান কাটার কাঁচি দিয়ে আমার ছেলের পায়ের রগ কেটে দিতে চায়। এ সময়ে ছেলেকে বাঁচাতে আমি এগিয়ে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। পরে আমার ভাই আবুল হোসেন এগিয়ে গেলে তার ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয়। পরে আমাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

বিকেলে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাখাল বিশ্বাস অপূর্ব বাকপ্রতিবন্ধী তরুণকে কোপানোর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুপুরের দিকে মারধরের ফলে আঘাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুরুতর জখম রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাথরঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ভাস্কর চন্দ্র দে। মারধরের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধান কাটার বিষয়টি দেখতে পেয়েছি। ধান যে চাষ করছে তার জিম্মায় রাখা হয়েছে, আহতদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে এবং দুই দিন পর মীমাংসার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই সময় কাগজপত্র দেখে যার জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।