বরিশাল নগরীতে রাতের আঁধারে খাবার হোটেল দখল করে সেখানে ধানের শীষের নির্বাচনি কার্যালয় করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক নারী। নিলুফা আক্তার নামের এই নারী শনিবার গভীর রাতে কোতোয়ালি থানাধীন শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডস্থ সিঅ্যান্ডবি পোলসংলগ্ন নাসির হাওলাদারের ভাই ভাই খাবার হোটেলটি দখল করেন। এবং সেখানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং বরিশাল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী অ্যাডভোটেক মজিবর রহমান সরোয়ারের ছবিসংবলিত বিশালাকায় ব্যানার টাঙিয়ে রাখেন।
কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সকালের আলো ছড়ালে হোটল দখল করে বিএনপি প্রার্থীর কার্যালয় করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে এ নিয়ে বিতর্ক জোরালো রূপ নেওয়ার আগেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপি এবং যুবদলের নেতাকর্মীরা দলীয় শীর্ষনেতাদের ব্যানারটি সরিয়ে ফেলেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, বরিশাল সিঅ্যান্ডবি ১ নম্বর পোলসংলগ্ন রাস্তার পাশের সরকারি ভূমি বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় বাসিন্দারা যে যার মতে করে দখল নিয়ে ব্যবহার করেন। কেউ কেউ এই ভূমির মালিকানাও দাবি করেন, যা নিয়ে পাড়াপ্রতিবেশীদের সাথে বিরোধও চলছে। এই বিরোধীয় সম্পত্তির একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সেখানে খাবার হোটেল পরিচালনা করেন নাসির হাওলাদার।
দোকানি নাসির হাওলাদার রূপালী বাংলাদেশকে জানান, হোটেলটির সম্পত্তি নিজের দাবি করে আসছিলেন নিলুফা আক্তার। কিছুদিন ধরে তিনি দোকানটি দখল দিয়ে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয় করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন, যা বিভিন্ন মাধ্যম শোনা যাচ্ছিল। শনিবার রাত ১২টার দিকে হোটেলটি বন্ধ করে বাসায় গেলেও রোববার সকালে সেখানে গিয়ে দেখতে পান ভিন্ন চিত্র।
একটি খাবার হোটেল রাতারাতি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি কার্যালয়ে রূপ দেওয়ার এই ঘটনা স্থানীয়দের আতঙ্কিত-উদ্বিগ্ন করে তোলে। বেলা বাড়তেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা কানাঘুষা ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর রাজনীতির অন্দরমহলে পৌছানোর আগেই ঘটনাস্থলে বরিশাল জেলা-মহানগর বিএনপি-যুবদলসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ছুটে যান। তাৎক্ষণিক হোটেলটি থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোটেক মজিবর রহমান সরোয়ারের ব্যানারটি নামিয়ে ফেলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম মঈন, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক মো. শামীম হাওলাদারসহ অর্ধশত নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে নিলুফা আক্তার নিজেকে বিএনপির কর্মীর পাশাপাশি ভাড়াটিয়া নাসির হাওলাদারের খাবার হোটেলটির ভূমি নিজের বলে দাবি করেছেন।
বিএনপি নেতাদের দাবি, নিলুফা বেগম কখনোই বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না, এখনও নেই। বরং তিনি জামায়াতকর্মী হিসেবে সমধিক পরিচিত সুলতান মাহমুদের বোন এবং সকলে তাকে এই পরিচয়ে জানেন-চেনেন। একজন জামায়াতকর্মীর বোন ব্যক্তিগত ফায়দা লুটতে এবং ধানের শীষের বদনাম করতে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এই কাজটি করতে পারে বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাদের। মহানগর বিএনপির যুগ্ম অহবায়ক মো. সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির সদর আসনের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারকে বিতর্কিত ও ক্ষতিগ্রস্ত করতেই জামায়াত পরিকল্পিতভাবে এ কাজটি করিয়েছে।
তবে নিলুফা আক্তার দাবি করেছেন, তার ভাই সুলতান মাহমুদ জামায়াতের রাজনীতির সাথে থাকলেও তিনি বিএনপি করতেন, করেন। এবং তিনি কারও জমি দখল করেননি। আওয়ামী লীগের শাসনামলে দখল হয়ে যাওয়া ভূমিটি উদ্ধার করতে গিয়ে দলীয় কর্মীদের রোষানলের শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কতিপয় স্থানীয় বিএনপি নেতা দোকানি নাসির হাওলাদার এবং দখলদারের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে জানান, এই ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে শুনেছি, সিঅ্যান্ডবি রোডে ঝামেলা হয়েছে, পুলিশও পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

