ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বগুড়া-৩ আসন

বিএনপির দুর্গ দখলের চেষ্টা করছে জামায়াত

আবু মুত্তালিব মতি, আদমদীঘি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
বগুড়া-৩ আসনের প্রার্থীরা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেলেও অভিজ্ঞ মহলের মতে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোট এ আসনে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা লক্ষ্য করা গেলেও জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের গণসংযোগ তুলনামূলকভাবে তেমন জোরালো নয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মহিত তালুকদার, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নুর মোহাম্মদ আবু তাহের, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শাহিনুল ইসলাম শাহিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী শাহাজাহান আলী তালুকদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তারা সবাই মাঠে-ময়দানে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে।

এই আসনে বিএনপি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে যতবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, ততবারই তাদের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামী এই আসনে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এককভাবে অংশ নেয়। ওই নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোফাজ্জল হক ২৯ হাজার ৫৩৬ ভোট পান।

বিএনপির প্রার্থী হাজি আব্দুল মজিদ তালুকদার ৪০ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাজি আব্দুল মজিদ তালুকদার ৬৫ হাজার ১৪০ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যেখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছোলায়মান আলী পান ৩৫ হাজার ৯২৩ ভোট। ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী ছিল না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও দলটির সমর্থিত ভোট গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত অনেক ভোটার প্রকাশ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। দিন দিন এই প্রবণতা বাড়ছে বলে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নুর মোহাম্মদ আবু তাহের দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুনাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তার নিজ ইউনিয়নসহ পুরো দুপচাঁচিয়া উপজেলায় জামায়াতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী রয়েছে।

আদমদীঘি উপজেলাতেও দলটির শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে। দলটির দাবি, ১৯৯১ সালের তুলনায় বর্তমানে তারা সাংগঠনিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং তাদের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন বলে তারা শতভাগ আশাবাদী।

অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মহিত তালুকদার সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার বাবা হাজি আব্দুল মজিদ তালুকদার টানা তিনবার এবং তার ভাই আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা টানা দুইবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ফলে বগুড়া-৩ আসনে তার একটি শক্ত পারিবারিক রাজনৈতিক ইমেজ রয়েছে। ঐক্যবদ্ধ বিএনপি এবং তার পারিবারিক গ্রহণযোগ্যতা একত্র হলে ভোটব্যাংক আরও শক্তিশালী হবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। বিএনপি নেতাকর্মীরাও আশাবাদ ব্যক্ত করছেন যে, ধানের শীষের প্রার্থীই বিজয়ী হবেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোটাররা ক্রমেই ভোটের মাঠে সক্রিয় হচ্ছেন। তারা প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ ও রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোট যেদিকে যাবে, সেই পক্ষের বিজয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শেষে জানা যাবে কে হচ্ছেন বগুড়া-৩ আসনের পরবর্তী সংসদ সদস্য।