নির্বাচনি পরিবেশ না থাকা, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিবগঞ্জবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে তিনি এই ঘোষণা দেন।
খোলা চিঠিতে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার নির্বাচনী এলাকায় একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ন্যূনতম পরিবেশ নেই। তার সমর্থক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেককে এলাকাছাড়া করা হয়েছে এবং সাধারণ ভোটারদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে শিবগঞ্জজুড়ে চরম আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, রাজনীতি হওয়া উচিত উন্নয়নের প্রতিযোগিতা, প্রতিহিংসার নয়। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় নির্বাচন মানে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা নয়, বরং ভয় ও জবরদস্তিকে বৈধতা দেওয়া।
শিবগঞ্জবাসীর সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়ের প্রশ্নে আপস করতে না পেরেই ভোট বর্জনের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি শান্তি ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বলেন, নির্বাচন বর্জন মানে পিছু হটা নয়; এটি ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর একটি প্রতিবাদ।
খোলা চিঠিতে সাবেক এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তিনি শিবগঞ্জের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে ন্যায় ও ন্যায্যতার পক্ষে এই ভোট বর্জন একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় পার্টির এই প্রবীণ নেতা বলেন, আপনাদের কাছে আমার একটাই আহ্বান— শান্তি, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে থাকুন। অন্যায়, অবিচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন। ভয় নয়, বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।
পরে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ খোলা চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তার নিজের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেক নেতাকর্মী ঘরছাড়া। এ অবস্থায় ভয়ভীতি ও চাপের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলেই তিনি ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বগুড়া-২ আসনে জাতীয় পার্টির এই প্রভাবশালী প্রার্থীর আকস্মিক ভোট বর্জনের ঘোষণায় স্থানীয় নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
উল্লেখ্য, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি–জোট মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নাকে পরাজিত করে এক লাখ ৮৪ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন