ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মামলা প্রত্যাহার না করায় বাদীপক্ষের ওপর হামলা, বিধবা নারীকে কুপিয়ে হত্যা

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ২১, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
ইনসাইটে নিহত উম্মে হাবিবা উর্মি। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বগুড়ার আদমদীঘিতে মামলা প্রত্যাহার না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি ও তার সহযোগীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদী, তার স্বামী ও সন্তানদের কুপিয়ে জখম এবং বসতবাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলায় বাদী উম্মে হাফিজার বাড়িতে বেড়াতে আসা তার ছোট বোন, বিধবা উম্মে হাবিবা উর্মিকে (৩৬) কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে। গত শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় আদমদীঘি উপজেলার উজ্জ্বলতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আদমদীঘি উপজেলার উজ্জ্বলতা গ্রামে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট পূর্বশত্রুতার জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমানের ছেলে ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটনের ছেলে ফারসিদ তালুকদারকে একই গ্রামের এখলাস হোসেন, একরাম ফকির ও কহির ফকিরসহ কয়েকজন মিলে পথরোধ করে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ফারসিদ তালুকদারের মা উম্মে হাফিজা বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এদিকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য আসামি ও তার সহযোগীরা বাদী উম্মে হাফিজা, তার স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারের আগ মুহূর্তে ওই মামলার বাদীর স্বামী ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটন ঈদের কেনাকাটা করে উজ্জ্বলতা গ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে দুলালী বেগমের বাড়ির সামনে পৌঁছামাত্র ওঁৎ পেতে থাকা একই গ্রামের কহির ফকির, দুলালী বেগম, এখলাস, সিরাজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর শুরু করে। এ সময় লিটনের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও বেড়াতে আসা শ্যালিকা উম্মে হাবিবা উর্মি এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়ে মারধর করতে থাকে। তারা পালিয়ে জনৈক শফিকুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে ধাওয়া করে গিয়ে কুড়াল, হাসুয়া ও লাঠি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। হামলায় বাদী উম্মে হাফিজা, তার স্বামী ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটন, তার ছেলে ফারসিদ তালুকদার, মেয়ে নুসরাত জাহান নিহা এবং দুলাভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসা উম্মে হাবিবা উর্মি গুরুতর জখম হন। এ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আদমদীঘি হাসপাতালে এবং পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদের মধ্যে বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসা উম্মে হাবিবা উর্মি রাত ১১টায় মারা যান।

আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেই সুযোগে হামলাকারীরা বাদীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে নিহতের বোন উম্মে হাফিজা বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সকালে হামলাকারী কহির ফকির, দুলালী বেগম, আইয়ুব হোসেন ও এখলাস হোসেনকে আটক করেছে। 

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে।