লটারিতে টাকার লোভ দেখিয়ে স্কুলশিক্ষার্থী ও কোমলমতি শিশুদের কাছে নকল এবং ভেজাল চিপস বিক্রি করা হচ্ছে। শিশুদের জন্য ভেজাল খাদ্যের বাজারে রমরমা ব্যবসা চলছে অথচ ভোক্তা অধিকার সংস্থা নীরব।
দুপচাঁচিয়ার অধিকাংশ চায়ের দোকান ও ফাস্টফুডের দোকানে ‘মামা ফুড প্রোডাক্টস’, ঢাকা- বাংলাদেশ লেখা যুক্ত চিপসের মোড়কজাত প্যাকেটের ভেতরে স্টিকারে বিভিন্ন ধরনের টাকার ছবি দিয়ে লটারির মাধ্যমে শিশুদের লোভ দেখিয়ে চিপস বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এমনকি ভেজাল ও নকল আচার, চিপসসহ শিশুদের পছন্দের বিভিন্ন ফাস্টফুড খাদ্য পুরোটাই ভেজালযুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং উপজেলা খাদ্য পরিদর্শকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় এ ধরনের অনিয়ম বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পৌর এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বেশকিছু স্কুলের সামনে চা-স্টল, তেমাথা রোড, পুরাতন বাজার ও গ্রামগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় চায়ের দোকানে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও শিশুরা এসব চিপস কিনে খাচ্ছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী ও শিশু বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিয়াম স্কুলের শিক্ষক বিপ্লব চন্দ্র মহন্ত বিপুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ এবং খাদ্যপণ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একসঙ্গে বাজার মনিটরিং বা পরিদর্শন করলে অনেকাংশে ভেজালমুক্ত করা সম্ভব। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অর্থের লোভে নকল ও ভেজাল খাদ্য বিক্রি করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন রোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

দুপচাঁচিয়া পৌর এলাকার মেসার্স সানজিদা স্টোরে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ফাস্টফুড খাদ্যে ভেজাল ও নকল পণ্য রয়েছে। একটি চিপসের বস্তা খুলে দেখা যায়, প্যাকেটের ভেতরে অল্প পরিমাণ চিপসের সঙ্গে একটি কালার বেলুন রাখা হয়েছে, যা চিপসের সঙ্গে রং মিশে গেছে বলে দেখা যায়। ওই বেলুনটি কী ধরনের কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি, তা দোকানদারও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। অথচ এসব চিপস নিয়মিত শিশুদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ভেজাল ফাস্টফুড খেলে শিশুদের কিডনি, লিভার ও পাকস্থলীতে সমস্যা হতে পারে। খাদ্যের ভেজাল বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
এদিকে ভোক্তা অধিকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুপচাঁচিয়ার খাদ্য পরিদর্শক মমতা রানী সাহা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা মাঠে কাজ করছেন। কোনো ধরনের ভেজাল খাদ্য বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে খুব একটা মিল নেই। তাদের দাবি, দুপচাঁচিয়া উপজেলায় কোথায় কোথায় ভেজাল ফাস্টফুড খাদ্য বিক্রি হয়, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জানা রয়েছে।
‘মামা ফুড প্রোডাক্টস’সহ বেশকিছু ফুড প্রোডাক্টে ঢাকা- বাংলাদেশ লেখা ছাড়া উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ এবং বিএসটিআইয়ের অনুমোদনের সীলমোহর না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা নামি-দামি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল পণ্য শিশুদের ফাস্টফুড হিসেবে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিলে ভেজাল খাদ্য থেকে শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন