ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে মাদ্রাসা শিক্ষকরা সরাসরি নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন চাঁদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর বিভিন্ন মাদ্রাসার ৫৮ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগে আবেদনকারী জানান, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গত ১০ নভেম্বর প্রকাশিত সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ২০ (খ) ধারায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মকর্তার নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো প্রার্থীর পক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করলে তা জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন হবে। কিন্তু চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর পক্ষে কাউনিয়া হানাফিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মো. ইউনুস (ইউনুস হেলাল), রামদাসেরবাগ আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান, বদরপুর আলিম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মো. মফিজুল ইসলাম এবং বালিথুবা সামছুলিয়া অদুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাহাবুবুর রহমানসহ উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার ৫৮ জন শিক্ষক হাটবাজার, অফিস, আদালত, রাস্তা-ঘাট ও উঠান বৈঠকসহ মিছিল-মিটিংয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন, যা নির্বাচনি আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন।
অতএব, আবেদনকারী নির্বাচনের সমতল মাঠ নিশ্চিত ও আচরণ বিধি মেনে চলার জন্য তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমির ও কাউনিয়া হানাফিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মো. ইউনুস (ইউনুস হেলাল)-এর মুঠোফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় মন্তব্য জানা যায়নি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘তিনি জরুরি কাজে বাইরে রয়েছেন। এ সংক্রান্ত আবেদন ডাক ফাইলে রয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



