চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমসের অভিযানে বিপুল পরিমাণ আমদানি-নিয়ন্ত্রিত বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুবাই ও শারজাহ থেকে আসা দুটি পৃথক ফ্লাইটে তল্লাশি চালিয়ে এসব সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউসের এআইআর শাখার সহযোগিতায় বিমানবন্দরের ‘এ’ শিফট তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হয়। এ সময় ১ হাজার ৫১৪টি কার্টনে থাকা ‘মন্ড’ ব্র্যান্ডের মোট ৩ লাখ ২ হাজার ৮০০ শলাকা সিগারেট জব্দ করা হয়।
এর মধ্যে দুবাই থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের (বিএস-৩৪৪) চার জন যাত্রীর কাছ থেকে ৯৮৯ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। ওই চার যাত্রী হলেন: মিজানুর রহমান (২৩০ কার্টন), মো. রেদোয়ান (২৭০ কার্টন), রেজাউল করিম (২৩৯ কার্টন), সালাউদ্দিন (২৫০ কার্টন)
এ ছাড়া, শারজাহ থেকে আসা এয়ার অ্যারাবিয়ার (জি ৯৫২০) একটি ফ্লাইটে মালিকবিহীন অবস্থায় আরও ৫২৫ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায়।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানি নীতি আদেশ ২০২২-২৫ অনুযায়ী সিগারেট একটি নিয়ন্ত্রিত পণ্য। সেগুলোর প্যাকেটে সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ বাণী এবং ক্ষতিকর ছবি থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, জব্দ করা সিগারেটগুলোর ক্ষেত্রে এটি প্রতিপালন করা হয়নি। উল্লিখিত সিগারেটগুলোর শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে চোরাচালানের মাধ্যমে এগুলো দেশে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল জানান, জব্দ করা সিগারেটগুলো ডিটেনশন মেমো (ডিএম) মূলে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কাস্টমস আইনের আওতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
আর আগে গত ৬ ডিসেম্বর বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল হলের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড কর্নার’ থেকে মালিকবিহীন ৬টি পরিত্যক্ত লাগেজ থেকে ৮০০ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয় এই চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা বলে কাস্টমস সূত্রে জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও গত ২২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ওমান থেকে আসা দুই যাত্রীর কাছ থেকে ১৯৯ কার্টন সিগারেট এবং ২৫০টি নিষিদ্ধ বিউটি ক্রিম জব্দ করা হয়।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন