ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আলোচিত অস্ত্র মামলার আসামি বদনী গ্রেপ্তার

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১১:০১ এএম
আলোচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম ওরফে বদনী গ্রেপ্তার। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাজনীতিতে আলোচিত ও প্রভাবশালী সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম ওরফে বদনীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কর্ণফুলী থানাধীন উত্তর বন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে কর্ণফুলী থানায় নেওয়া হয়। আজ রোববার আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, মরিয়ম বেগম ওরফে বদনী আনোয়ারা উপজেলার রাজনীতিতে একসময় অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম ছিলেন। তিনি ২০০৪ সালে চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত সিইউএফএল ঘাটে ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মামলার আসামি হয়ে ছয় মাস কারাভোগ করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৪ সালে ওই মামলা থেকে খালাস পান তিনি।

মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পরই তিনি পুনরায় সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন। এর আগে ২০১১ সালে বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয়বারের মতো একই পদে নির্বাচিত হন।

টানা দুই মেয়াদসহ বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বদনী স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। বয়সের ভারে কিছুটা ন্যুব্জ হলেও দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।

কর্ণফুলী থানার ওসি মো. শাহীনুর আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মরিয়ম বেগম ওরফে বদনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ তাকে আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে।’

এর আগে, গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর তার ছেলে আখতার হোসেনকে (৪০) যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তার কাছ থেকে একটি নকল পিস্তল, ১২ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজা, তিনটি সামরিক গ্রেডের ওয়াকিটকি সেট, তিনটি সামরিক গ্রেডের কম্পাস, ২১ মোবাইল ফোন, ৯৫ সিম কার্ড, পেনড্রাইভ, মেমোরি কার্ড ও ১৮ দেশীয় অস্ত্রসহ নির্যাতনের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়।